হঠাৎ চারদিকে চিৎকার-চেঁচামেচি। ঘুম ভেঙে জানলার দিকে তাকাতেই চোখে পড়ে ভয়াবহ দৃশ্য—সামনের দিকে ধেয়ে আসছে কাদামাটি আর জলের বিশাল স্রোত। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় গোটা এলাকার চেহারা। পাহাড়ি ঢলের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে এখনও আতঙ্কিত প্রত্যক্ষদর্শীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, আচমকাই প্রবল শব্দ শুনতে পান তাঁরা। প্রথমে কী ঘটছে বুঝতে না পারলেও বাইরে তাকাতেই দেখা যায়, পাহাড়ের দিক থেকে জলের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদামাটি নেমে আসছে। দেখতে অনেকটা ‘কাদামাটির পাহাড়’ ধেয়ে আসার মতো। পরিস্থিতি বুঝে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা।
কেউ বাড়ির উঁচু তলায় উঠে যান, কেউ আবার আশপাশের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই রাস্তা, বাড়িঘর এবং আশপাশের এলাকা কাদা ও জলের স্রোতে ঢেকে যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়। আতঙ্কে অনেকেই পরিজনদের খোঁজ করতে শুরু করেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “চিৎকার শুনে জানলায় তাকিয়ে দেখি, ধেয়ে আসছে কাদামাটির পাহাড়।” তাঁর কথায়, ঘটনার আকস্মিকতায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়াই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয়দের বক্তব্য, পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টি হলে আচমকা জল ও কাদার স্রোত নেমে আসার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এ ভাবে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি অনেকে।
বানের পর শুরু হয় উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। নিখোঁজদের সন্ধান এবং আটকে পড়া মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই এখন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ভয়াবহ সেই রাতের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলিকে।