কৃষ্ণ সাগরে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামোর কাছে বিস্ফোরকবোঝাই সামুদ্রিক ড্রোন উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোমানিয়ার ‘নেপচুন ডিপ’ গ্যাস প্রকল্পের কাছাকাছি। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০ অগস্ট প্রকল্পটির প্ল্যাটফর্ম থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে একটি সামুদ্রিক ড্রোন শনাক্ত করা হয়। সেটিতে বিস্ফোরক ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে তখন কয়েকশো কর্মী কাজ করছিলেন। সম্ভাব্য বিপদ আঁচ করে রোমানিয়া দু’টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠায়। একটি বিমান ড্রোনটিকে নিষ্ক্রিয় করে। পরে একটি জাহাজ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে। ইউক্রেনও রোমানিয়াকে জানিয়েছে, ড্রোনটি তাদের বাহিনীর নয়।
এই ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছেন রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দান। তবে মস্কোর তরফে এখনও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ফলে সরাসরি রুশ হামলা হিসাবে ঘটনাটিকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করার আগে তদন্তের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
নেপচুন ডিপ প্রকল্পটি রোমানিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি ২০২৭ সালে উৎপাদনে যাওয়ার কথা। চালু হলে রোমানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম, এমনকি সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদক হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই প্রকল্পের আশপাশে নিরাপত্তা নিয়ে যে কোনও ঘটনা ইউরোপের জ্বালানি ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘটনাটি অবশ্য একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়। চলতি অগস্টেই নেপচুন ডিপ প্রকল্পের কাছে রুশ-নির্মিত ‘গেরবেরা’ ধরনের দু’টি ড্রোন ভাসতে দেখা গিয়েছিল। রোমানিয়ার সেনা পরে সেগুলি ধ্বংস করে। একই সময়ে রোমানিয়ার আকাশসীমায় একাধিক ড্রোন প্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে।
এর ফলে কৃষ্ণ সাগরকে ঘিরে নেটো-র নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়ছে। নেটো ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডের সাম্প্রতিক আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় রাশিয়ার দায় রয়েছে এবং পূর্ব ইউরোপ থেকে কৃষ্ণ সাগর পর্যন্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েনও নেপচুন ডিপের ঘটনার পর ইউরোপের বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’-এর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে এখনই নেটো সরাসরি সামরিক সংঘাতে যাবে কি না, তা নির্ভর করবে ঘটনার প্রকৃতি, দায় প্রমাণ এবং নেটো-ভুক্ত দেশের ভূখণ্ড বা নাগরিকদের উপর হামলার মাত্রার উপর। এই মুহূর্তে ঘটনাটি নেটো-র জন্য বড় সতর্কবার্তা হলেও, সরাসরি রাশিয়া-নেটো সংঘাতের দিকে যাওয়ার প্রমাণ এখনও নেই।
কৃষ্ণ সাগরের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামোকে ঘিরে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। রোমানিয়ার মতো নেটো সদস্য দেশগুলির সামনে তাই এখন বড় প্রশ্ন—রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো পর্যন্ত পৌঁছনো ঠেকাতে কতটা কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, আবার একই সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকিও কী ভাবে এড়ানো যায়।