‘পেপারলেস’ প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোল রাজ্য সরকার। সরকারি কাজকর্মে কাগজের ব্যবহার কমিয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে নবান্ন। সেই লক্ষ্যেই অর্থ দফতরের কর্মীদের ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, অর্থ দফতরের বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের অনলাইন ব্যবস্থায় কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি নথি তৈরি, আদানপ্রদান, অনুমোদন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
বর্তমানে সরকারি দফতরের একাধিক কাজ অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হলেও সব কর্মী একই ভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অভ্যস্ত নন। ফলে নতুন ব্যবস্থায় কাজের গতি বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের সংশ্লিষ্ট অনলাইন ব্যবস্থা ব্যবহার, ডিজিটাল নথি পরিচালনা এবং দফতরের অভ্যন্তরীণ ই-প্রক্রিয়া সম্পর্কে দক্ষ করে তোলার চেষ্টা হবে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, অর্থ দফতর সরকারি অর্থ বরাদ্দ, ব্যয় এবং বিভিন্ন আর্থিক অনুমোদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে এই দফতরের কাজকর্ম আরও বেশি ডিজিটাল হলে সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও তার প্রভাব পড়বে। কাগজের ফাইলের পরিবর্তে ডিজিটাল নথির ব্যবহার বাড়লে সময় ও পরিশ্রম দু’টোই কমতে পারে।
পাশাপাশি অনলাইন ব্যবস্থায় নথির গতিবিধি এবং কাজের অগ্রগতি সহজে নজরে রাখার সুযোগ থাকায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতাও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ডিজিটাল ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখছে রাজ্য সরকার।
এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি সরকারি দফতরকে সম্পূর্ণ বা আংশিক ‘পেপারলেস’ ব্যবস্থার আওতায় আনার পথ আরও মসৃণ হবে। প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজকে প্রযুক্তিনির্ভর করে নাগরিক পরিষেবাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করাই এখন নবান্নের অন্যতম লক্ষ্য।