তারাপীঠ মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের ক্ষেত্রে একাধিক নিয়ম জারি করেছে মন্দির কমিটি। তারা-মায়ের মূর্তিতে স্পর্শ করা যাবে না-সহ একাধিক বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছে। তবে এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন মন্ত্রী-আমলা-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংসদ-বিধায়করা। এমনকী কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতেও তাঁরা ভক্তদের ভিড় এড়িয়ে ঢুকে পড়তেন নেতা, মন্ত্রী-আমলারা। তবে, এ বার কড়া হয়েছে তারাপীঠ মন্দির কমিটি। সেখানে ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছে ওই কমিটি। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কৌশিকী অমাবস্যায় কাউকেই মন্দিরে গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এই ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন না মন্ত্রী-আমলারাও।
এক নজরে
১০ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা
তারাপীঠ মন্দিরে প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়
অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে বিশেষ নিরাপত্তা এবং নজরদারির ব্যবস্থা করবে প্রশাসন
কৌশিকী অমাবস্যায় কাউকেই গর্ভগৃহে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না
গর্ভগৃহের বাইরে অর্থাৎ নাটমন্দিরের বারান্দা থেকে দর্শন করতে হবে মা তারাকে
অন্তত ৫ ফুট দূর থেকেই দর্শন সারতে হবে সকলকে
একই নিয়ম কার্যকর হবে মন্ত্রী-আমলাদের জন্য
মায়ের ধাতব চরণযুগল গর্ভগৃহের বাইরে বারান্দায় রাখা থাকবে
সেখানেই ভক্তরা চরণস্পর্শ করার সুযোগ পাবেন
পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য দু’টি লাইন থাকবে
বিশেষ লাইনের জন্য ৫০০ টাকা দিয়ে কুপন কাটতে হবে
সাধারণ লাইনে দর্শনের জন্য কোনও প্রবেশমূল্য লাগবে না
ভিআইপি সংস্কৃতির দিন শেষ
কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে রেকর্ড ভিড় হয় তারাপীঠ মন্দিরে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ভক্তদের ভিড়ে উপচে পড়ে তারাপীঠ। মন্দিরে মা-কে দর্শন করতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন মন্ত্রী-আমলারা। সেই ভিড় এড়িয়ে একেবারের মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢুকে পড়তেন তাঁরা। তবে কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’র দিন শেষ। কাউকেই গর্ভগৃহে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। সাধারণ পুণ্যার্থী হোক বা প্রভাবশালী মন্ত্রী-আমলা— সকলের জন্য একই নীতি কার্যকর হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে তারাপীঠ মন্দির কমিটি।
দূর থেকেই দর্শন
কৌশিকী অমাবস্যায় মায়ের মূর্তিকে স্পর্শ করা তো দূর, গর্ভগৃহে পা গলানোর অনুমতি দেওয়া হবে না কাউকেই। আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে ভিড় সামলাতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বেনজির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারাপীঠের নতুন মন্দির কমিটি। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গর্ভগৃহের বাইরে অর্থাৎ নাটমন্দিরের বারান্দা থেকে অন্তত ৫ ফুট দূর থেকেই দর্শন সারতে হবে সকলকে।
নিরাপত্তায় নজর
পঞ্জিকা অনুসারে, চলতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা। সে দিন সকাল ১০টা ১১ মিনিটে শুরু হচ্ছে কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্যতিথি। তা থাকবে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। তবে, প্রতি বছরের মতো, তার আগের দিন থেকেই বিপুল পুণ্যার্থী সমাগমের সম্ভাবনা তারাপীঠে। সেই কারণে এখন থেকেই এই ভিড় সামাল দিতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে পুলিশ, প্রশাসন এবং মন্দির কমিটি। মন্দির চত্বর থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, পার্কিং এলাকা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং পুণ্যার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে প্রশাসনকে আগাম প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। আর সেই কথা মাথায় রেখেই মঙ্গলবার তারাপীঠ মন্দির কমিটির সঙ্গে হয়ে গেল প্রশাসনিক বৈঠক। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রামপুরহাটের মহকুমা শাসক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক-সহ মন্দির কমিটির সভাপতি ও অন্যান্যরা।
জানা গিয়েছে, ওই সময়ে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। বিপুল ভিড়ের মধ্যে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে তারাপীঠ এলাকায়।
চালু হচ্ছে নতুন নিয়ম
এরই সঙ্গে কৌশিকী অমাবস্যায় মন্দিরে, বিশেষ করে গর্ভগৃহে, প্রবেশের ক্ষেত্রে চালু হচ্ছে নতুন নিয়ম। ওই দিনে কাউকেই গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে ঠিক করা হয়েছে। মন্ত্রী, আমলা বা প্রভাবশালীদের ভেতরে ঢোকানোর জন্য যাতে কোনও সুপারিশ বা অনুরোধ না করা হয় তার জন্যও প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে মন্দির কমিটি। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বারান্দা থেকেই ৫ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিমা দর্শন করতে হবে। তবে পুণ্যার্থীদের আবেগকে মান্যতা দিয়ে মায়ের ধাতব চরণযুগল গর্ভগৃহের বাইরে বারান্দায় রাখা থাকবে। সেখানেই ভক্তরা চরণস্পর্শ করার সুযোগ পাবেন। কেন এই কড়া পদক্ষেপ তা জানিয়েছেন মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘মায়ের কাছে সব ভক্তই সমান। সেই সাম্যের বার্তা দিতে এবং উৎসবের দিনগুলিতে বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
কৌশিকী অমাবস্যায় কী কী নয়া নিয়ম জারি হচ্ছে?
গর্ভগৃহে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ: মা তারার গর্ভগৃহে কোনও ভক্তই ঢুকতে পারবেন না। ওই দিন মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না মন্ত্রী, নেতা, আমলাদেরকেও।
দূর থেকেই দর্শন ও চরণস্পর্শ: গর্ভগৃহের বাইরে বারান্দা থেকেই ৫ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিমা দর্শন করতে হবে। তবে পুণ্যার্থীদের আবেগের কথাকে মাথায় রেখে মায়ের ধাতব চরণযুগল গর্ভগৃহের বাইরে বারান্দায় রাখা থাকবে। সেখানেই ভক্তরা চরণস্পর্শ করার সুযোগ পাবেন।
নির্দিষ্ট লাইনে নজরদারি: পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য দু’টি লাইন থাকবে। একটি সাধারণ এবং অন্যটি বিশেষ লাইন।
ভিআইপি পাসে লাগাম: অতীতে বিশেষ লাইনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠলেও, এ বার সেই পথ বন্ধ। বিশেষ লাইনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে মাথাপিছু ৫০০ টাকার কুপন। তবে সাধারণ লাইনে দর্শনের জন্য কোনও প্রবেশমূল্য লাগবে না।