খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং কালোবাজারি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরেই রাজ্যজুড়ে অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (ইবি)। মাসখানেক ধরে আনাজ থেকে মাছ–মাংসের দাম বাড়ছে। বিশেষ করে চিনি, পেঁয়াজ, চালের দাম নিয়ে চিন্তা বাড়ছে গেরস্তের। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ খুঁজতেই মঙ্গলবার অভিযান চালায় ইবি।
এ দিন কলকাতার কোলে মার্কেটের পেঁয়াজপট্টিতে ইবি অফিসারেরা গেলে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। ব্যবসায়ীরা তাঁদের জানান, মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পেঁয়াজ আনতে না–পারার কারণেই দাম বাড়ছে। এ দিন ইবির সঙ্গে অভিযানে সঙ্গে ছিলেন খাদ্য দপ্তর, টাস্ক ফোর্স এবং কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরাও। যদুবাবুর বাজার, মানিকতলা-সহ একাধিক বাজারে গিয়ে স্টক, ক্রয়মূল্য, বিক্রয়মূল্য এবং মজুতের হিসেব খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। বিশেষ নজর ছিল কৃত্রিম ভাবে সঙ্কট তৈরি করে মজুত রোখার উপরে। কারণ প্রশাসনের সন্দেহ, মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে অনেকে টানা বৃষ্টি, সরবরাহে বিঘ্ন বা পরিবহণে ব্যয়বৃদ্ধির কথা বললেও, কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে কেউ কেউ দাম বাড়াচ্ছেন।
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অভিযানে ইবি অফিসারেরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন ডাল, চিনির মতো সামগ্রী ৩০ দিনের বেশি মজুত করা যাবে না। অভিযান চলে মালবাজার, ধূপগুড়ি, বালুরঘাটের একাধিক বাজারে। পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর মহকুমার বেলদা এবং ডেবরা বাজারে তল্লাশিতে নামে পুলিশ। অভিযান চালানো হয় তমলুকের একাধিক বাজারেও। এ দিন আসানসোলে খুচরো বাজারে অভিযান চালান প্রশাসনের আধিকারিকরা। কালনায় তল্লাশিতেও বিশেষ নজর ছিল গোডাউনের উপরে। বাঁকুড়ার বাজারগুলিতেও তল্লাশি চালানো হয়।
মঙ্গলবার সাতসকালে হাওড়ার কদমতলা বাজারে যায় ইবি–র টিম। ইবি আধিকারিক শ্রাবণী রায় জানান, খুচরো বাজারে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ার খবর পেয়েই নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন গোডাউন এবং দোকানে গিয়ে চিনি কত দামে কেনা হচ্ছে এবং কত দামে বিক্রি করা হচ্ছে, তা দেখা হচ্ছে। চন্দননগরের বেশ কয়েকটি বাজার, চুঁচুড়া রবীন্দ্রনগর বাজার, শেওড়াফুলি বাজার এবং ব্যান্ডেল বাজারেও অভিযান চলে।