কৃষ্ণ সাগরের গ্যাস প্রকল্পে ‘ফিদায়েঁ’ ড্রোনে রুশ চমকানি, পুতিনের পাতা ‘হাড়িকাঠে’ মাথা গলানোর ভুল করবে নেটো?


কৃষ্ণ সাগরকে ঘিরে ফের বাড়ছে উত্তেজনা। রোমানিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অফশোর গ্যাস প্রকল্প ‘নেপচুন ডিপ’-এর কাছে একাধিক ড্রোন উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, রুশ নকশার ‘গেরবেরা’ ধরনের দু’টি ড্রোন কৃষ্ণ সাগরে ভাসতে দেখা যায়। পরে সেনাবাহিনীর ডুবুরিরা সেগুলি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে। ইউক্রেন জানিয়েছে, ওই ড্রোনগুলি তাদের বাহিনীর নয়।

ঘটনার কয়েক দিন পর আরও বড় উদ্বেগ তৈরি হয়। রোমানিয়ার আকাশসীমায় একটি ড্রোন প্রবেশের পাশাপাশি নেপচুন ডিপ প্রকল্পের কাছাকাছি একটি বিস্ফোরকবোঝাই সামুদ্রিক ড্রোন ধ্বংস করে রোমানিয়ার F-16 যুদ্ধবিমান। রোমানিয়ার কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে। তবে মস্কোর পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট ঘটনার দায় স্বীকারের কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

‘নেপচুন ডিপ’ শুধু রোমানিয়ার জন্য নয়, গোটা ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। ২০২৭ সালে উৎপাদন শুরু হলে প্রকল্পটি রোমানিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস উৎপাদক করে তুলতে পারে। ফলে কৃষ্ণ সাগরের এই গ্যাসক্ষেত্রকে ঘিরে যে কোনও নিরাপত্তা-ঝুঁকি ইউরোপের জ্বালানি পরিকাঠামোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে নেটোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রোমানিয়া নেটোর সদস্য হওয়ায় তার আকাশসীমা বা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর কাছে বারবার ড্রোনের উপস্থিতি জোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। নেটো ইতিমধ্যেই রোমানিয়া ও পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনাগুলির নিন্দা করে জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলির ভূখণ্ড রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ এবং পূর্ব সীমান্তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

তবে এই মুহূর্তে ঘটনাগুলিকে সরাসরি নেটো-রাশিয়া সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। নেটোর সদস্য দেশগুলি নিজেদের ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে, কিন্তু একই সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়ানোর বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ক্রমশ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামোর উপর পড়ছে। এর আগে রাশিয়া অভিযোগ করেছিল, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তুরস্কগামী ‘ব্লু স্ট্রিম’ গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি কম্প্রেসর স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফলে নেপচুন ডিপের কাছে ড্রোনের উপস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—কৃষ্ণ সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামো কি ভবিষ্যতের সংঘাতের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠছে? আপাতত নিশ্চিত উত্তর নেই। তবে রোমানিয়া, নেটো এবং ইউরোপীয় দেশগুলির কাছে এই ঘটনাগুলি যে নিরাপত্তার বড় সতর্কবার্তা, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

Post a Comment

Previous Post Next Post