বিপর্যয়ের আগে ‘টিকটক’ ভিডিও! নেপালে মা-পিসির খোঁজে হন্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণী


নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকেই নিখোঁজ মা ও পিসির খোঁজে মরিয়া ব্রিটেনের ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণী তুলসী পটেল। শেষ পর্যন্ত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োই তাঁর মা ও পিসির শেষ অবস্থানের সূত্র দিয়েছে। তবে এখনও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে উদ্বেগ কাটেনি পরিবারের।
জানা গিয়েছে, তুলসীর মা হেমাঙ্গিনী পটেল এবং পিসি হেমা সুনীল আমিন তিব্বতে তীর্থযাত্রার উদ্দেশে বেরিয়েছিলেন। গত ২৪ অগস্ট, সোমবার তাঁদের সঙ্গে শেষ বার কথা হয়েছিল তুলসীর। পরদিন হোয়াটসঅ্যাপে তাঁদের একটি ছবিও পান তিনি। ছবিতে দু’জনকেই হাসিখুশি দেখা গিয়েছিল।
এর পরেই পরিস্থিতি বদলে যায়। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবর সামনে আসার পর মা ও পিসির সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি তুলসী। তাঁদের শেষ জানা জিপিএস অবস্থান ছিল নেপাল-চিন সীমান্তের ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’-এর কাছে।
মা-পিসির খোঁজে নিজেই সমাজমাধ্যম ঘাঁটতে শুরু করেন তুলসী। তখনই একটি টিকটক ভিডিয়ো তাঁর নজরে আসে। স্থানীয় এক নেপালি ট্যুর গাইডের তৈরি বলে মনে করা ওই ভিডিয়োয় দেখা যায়, হেমাঙ্গিনী ও হেমা-সহ আরও তিন পর্যটক সীমান্ত পার হওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ভিডিয়োটি বিপর্যয়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই পোস্ট করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
তুলসীর অনুমান, আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে তাঁরা সীমান্ত পার হতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বুধবার সকালে সীমান্ত পার হওয়ার অপেক্ষাতেই ছিলেন তাঁরা। এর পরেই ভয়াবহ হড়পা বান ও ধস আঘাত হানে ওই অঞ্চলে।
মা ও পিসির কোনও খবর না পেয়ে প্রতিদিন তাঁদের ফোনে এবং হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন তুলসী। ট্যুর গাইডের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্ধারকাজের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
নেপালের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। উদ্ধারকারী দল দুর্গম এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ স্বজনদের পরিবারের মতোই তুলসীর পরিবারও আশায় বুক বেঁধে রয়েছে—হয়তো কোনও এক মুহূর্তে মিলবে মা ও পিসির বেঁচে থাকার খবর।

Post a Comment

Previous Post Next Post