ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তিচ্ছু পড়ুয়াদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন বোর্ডের। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিংয়ের পর যে আসনগুলি ফাঁকা থেকে যাবে, সেগুলি পূরণের জন্য চালু হচ্ছে নতুন ডিসেন্ট্রালাইজড কাউন্সেলিং ব্যবস্থা। এই প্রথম রাজ্যস্তরে এমন একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অবশিষ্ট আসনে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে WBJEE বোর্ড।
এত দিন কেন্দ্রীয় কাউন্সেলিংয়ের পর কোনও প্রতিষ্ঠানে আসন ফাঁকা থাকলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ নিজেদের মতো করে সেই আসন পূরণের উদ্যোগ নিত। নতুন ব্যবস্থায় সেই প্রক্রিয়ায় বদল আসছে। অবশিষ্ট আসনগুলিতে ভর্তি আরও স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভাবে করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে।
তবে এই নতুন কাউন্সেলিংয়ে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। WBJEE-র তিন দফা কেন্দ্রীয় কাউন্সেলিংয়ে অংশ নিয়ে যাঁরা ইতিমধ্যেই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন, তাঁরা নতুন ডিসেন্ট্রালাইজড কাউন্সেলিংয়ে অংশ নিতে পারবেন না। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ভর্তি সম্পূর্ণ করা প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও।
বোর্ডের এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হল, আগে থেকেই ভর্তি হয়ে যাওয়া পড়ুয়াদের ফের একই প্রক্রিয়ায় সুযোগ দেওয়ার বদলে প্রকৃতপক্ষে যাঁদের আসন প্রয়োজন, তাঁদের জন্য অবশিষ্ট আসনগুলি উন্মুক্ত রাখা। এর ফলে আসন বণ্টনে অযথা জটিলতা কমবে এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
WBJEE বোর্ডের ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের ডিসেন্ট্রালাইজড কাউন্সেলিং সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এবং সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে অবশিষ্ট আসনে ভর্তির প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, WBJEE-২০২৬-এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি কলেজ এবং স্বনির্ভর ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি, ফার্মেসি ও আর্কিটেকচার কোর্সে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।
নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় কাউন্সেলিংয়ের পরও ফাঁকা থাকা আসনগুলি দ্রুত পূরণ করার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা বহু পড়ুয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।