সরকারি চিকিৎসকের ঘাটতি মেটাতে বেসরকারি হাসপাতালে নজর! চুক্তিতে ডাক্তার নিয়োগের ভাবনা, কাজ হবে কি? উঠছে প্রশ্ন


সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসকের ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকা এবং জেলা স্তরের হাসপাতালগুলিতে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম থাকায় পরিষেবা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় স্বাস্থ্য দফতরকে। এই ঘাটতি দ্রুত মেটাতে এবার বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের চুক্তির ভিত্তিতে সরকারি পরিষেবায় যুক্ত করার ভাবনা সামনে এসেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেসরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হতে পারে। এর ফলে স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে দ্রুত চিকিৎসক ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরিষেবাও প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালগুলিতে কাজে লাগানো যেতে পারে।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে। বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সরকারি পরিষেবায় যুক্ত করতে গেলে তাঁদের পারিশ্রমিক, কাজের সময়, দায়িত্বের পরিধি এবং পরিষেবার শর্ত কী হবে—তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি চিকিৎসকদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসকদের কাজের ক্ষেত্রে কোনও বৈষম্য তৈরি হবে কি না, সেই প্রশ্নও রয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মহলের একাংশের মতে, সাময়িকভাবে চিকিৎসকের ঘাটতি মেটাতে এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে যেখানে দ্রুত চিকিৎসক প্রয়োজন, সেখানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য স্থায়ী নিয়োগই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তাঁদের মত।
প্রশ্ন উঠছে, বেসরকারি ক্ষেত্র থেকে চিকিৎসক এনে সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা দেওয়ানো গেলেও প্রত্যন্ত এলাকায় তাঁদের ধরে রাখা কতটা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রোগীর চাপ, পরিকাঠামোর অভাব এবং কাজের পরিবেশের মতো বিষয়গুলিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
ফলে বেসরকারি চিকিৎসকদের চুক্তিতে নিয়োগের ভাবনা আপাতত ঘাটতি মেটানোর একটি বিকল্প পথ হলেও, তা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নিয়োগের শর্ত, পারিশ্রমিক, পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার উপর। স্থায়ী নিয়োগের পাশাপাশি এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সুফল দেয়, এখন সেটাই দেখার।

Post a Comment

Previous Post Next Post