যাদবপুরের ক্যাম্পাসে বেশ কিছু দেওয়াললিখন ঢেকে দেওয়া হল চুনকামে! মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তা শুনেই কি পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষের?


যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেশ কিছু দেওয়াললিখন চুনকাম করে ঢেকে দেওয়াকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেওয়ালে রাজনৈতিক ও বিতর্কিত বার্তা লেখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তার মধ্যেই একাধিক জায়গায় দেওয়াল পরিষ্কার করে চুনকাম করার ঘটনায় জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের পোস্টার, দেওয়াললিখন এবং রাজনৈতিক বার্তা দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কয়েকটি দেওয়াললিখন ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। অভিযোগ ওঠে, কিছু লেখায় আপত্তিকর কিংবা উসকানিমূলক বার্তা রয়েছে। সেই আবহেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে কয়েকটি দেওয়াল চুনকাম করে দেওয়ার উদ্যোগ নজরে আসে।
ঘটনার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ক্যাম্পাসে কোনও ধরনের দেশবিরোধী বা উসকানিমূলক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না—এমন বার্তা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই কর্তৃপক্ষ সক্রিয় হয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে দেওয়াললিখন ঢেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং একইসঙ্গে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
ইতিমধ্যেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। এক পক্ষের দাবি, বিতর্কিত লেখার বিরুদ্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে, দেওয়াললিখন মুছে ফেলার মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।
ফলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেওয়াললিখন ঘিরে বিতর্ক এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তার পরেই কি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ, নাকি এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।

Post a Comment

Previous Post Next Post