‘আমাদের কনভয়ে থাকা সামনের দুটো বাস গিলে নিল কাদাজলের বিশাল স্রোত’! ভয়ঙ্কর বর্ণনা নেপালফেরত ২১ ভারতীয়ের


নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাক্ষী হয়ে দেশে ফিরলেন ২১ জন ভারতীয় পর্যটক। শুক্রবার চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছন তাঁরা। চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ, ক্লান্তি আর ভয়—বিমানবন্দরেই উঠে এল তাঁদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা। পর্যটকদের কয়েক জনের দাবি, কাদামাটি ও পাথর মেশানো প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে তাঁদের কনভয়ের সামনের দু’টি বাসকে গ্রাস করে নেয়।
পর্যটকদের বর্ণনা অনুযায়ী, আচমকাই তাঁরা বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শুনতে পান। তার পরেই পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসে বিপুল কাদা-পাথর মেশানো জল। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কনভয়ে থাকা বাসগুলির উপর আছড়ে পড়ে সেই স্রোত। সামনে থাকা দু’টি বাস কার্যত কাদাজলের মধ্যে হারিয়ে যায় বলে জানান তাঁরা।
এক পর্যটক বিজয়ভুবনেশ্বরী জানান, সেই সময়ের দৃশ্য এখনও তাঁদের চোখের সামনে ভাসছে। আচমকা বিকট শব্দের পরেই বিশাল কাদা-পাথরের স্রোত নেমে আসে। কী ঘটছে, তা বোঝার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রাণ বাঁচাতে তখন কার্যত হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। বিপদের মধ্যে কী ভাবে নিজেদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছিল, সেই স্মৃতি এখনও তাঁদের কাছে অবিশ্বাস্য। দেশে ফিরে পর্যটকদের কয়েক জন এই বেঁচে ফেরাকে ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন।
নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বান একাধিক এলাকায় ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। কোথাও কাদার স্রোতে বাড়িঘর ভেসে গিয়েছে, কোথাও রাস্তাঘাট বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারীদেরও দুর্গত এলাকায় পৌঁছতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নেপাল থেকে ২১ ভারতীয়ের নিরাপদে দেশে ফেরা স্বস্তি দিয়েছে তাঁদের পরিবারকে। তবে পর্যটকদের মুখে শোনা সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বুঝিয়ে দিচ্ছে, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই কী ভাবে পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post