এই অভিযানে উঠে এসেছে ঝোপ বুঝে কোপ মারার কেরামতি ও চিনির কালোবাজারির তথ্য। ইতিমধ্যেই জেলার সীমান্ত শহর জয়গাঁ, বারোবিশা ও শামুকতলায় অভিযান চালিয়ে চিনির একাধিক মজুতদারকে সতর্কতার নোটিস ধরয়েছে পুলিশ। যদি ওই টোটকায় কাজ না হয়, তবে সাদা পোশাকের পুলিশ অভিযুক্ত চিনির পাইকারদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার অমিতকুমার শাহ। আলিপুরদুয়ারের খুচরো বাজারে জুলাইয়ে ৪৫ টাকা কেজি দরে মিলছিল চিনি। এখন ওই দাম কোথাও কোথাও ৭০ টাকা ছুঁয়েছে।
এই অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি নিয়ে চিনির মজুতদাররা সরবরাহের অভাবকে দায়ী করলেও তা মানতে নারাজ জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, চিনির জোগান কমেনি। ঠিক কী ভাবে চিনির কৃত্রিম অভাব তৈরি করা হয়েছে, সেই কৌশল ধরে ফেলেছে রাজ্য সরকার। অন্য দিকে খুচরো বিক্রেতাদের যুক্তি, বেশি দামে কিনে তো আর কম দামে বিক্রি করা যায় না। স্বাভাবিক ভাবেই সাধারণ ক্রেতাদের কাছে প্রতি কেজি চিনির দাম বেশি নিতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।
অন্য দিকে নামী কোম্পানির শপিং মলগুলিতে চিনির দাম অনেকটাই লাগামে থাকায় সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শহরের মানুষ ওই মল থেকে 'অফার'-এর সুযোগ নিচ্ছেন। শপিং মলে প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু গ্রামের ক্রেতারা তো সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে গ্রামের দিকে ফের নুন-চা খাওয়ার রেওয়াজ ফিরে এসেছে। জেলা প্রশাসনের দাবি, দ্রুত জেলার ফালাকাটা, বীরপাড়া, মাদারিহাটও চিনির কালোবাজারি রুখতে মাঠে নামবে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ সুপার বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়া মাত্রই আমরা অভিযান শুরু করেছি। চিনি বিক্রিতে কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়লে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।'