কলকাতায় একাধিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের জের, এই হোটেলগুলিকে শো কজ নোটিস পাঠাল দমকল


কলকাতা : কলকাতায় একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বড় পদক্ষেপ করল দমকল কর্তৃপক্ষ। পরপর দুই দিন পশ্চিমবঙ্গে দুই জায়গায় দুটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ঝলসে, দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হল ১৮ জনের। এই পরিস্থিতিতে অগ্নি নিরাপত্তা বিধি না মানার অভিযোগে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি গেস্ট হাউস এবং ৪টি রেস্তোরাঁকে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই হোটেলগুলিতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থায় একাধিক ত্রুটি নজরে এসেছে। দমকলের তরফে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন এই গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁগুলিকে বন্ধ করা হবে না?  
দমকল সূত্রে খবর, এই গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁগুলিকে এর আগেও একাধিকবার নোটিস পাঠানো হয়েছিল। অগ্নি নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার জন্যই আগের নোটিসগুলি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন দমকলের DG অনুজ শর্মা। অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের হোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁগুলিতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দমকলের। 
এরই মধ্যে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে  ১ জনকে। মালিক বীরেশ্বর মিত্র  আবু জাফর নামে এই ব্যক্তিকেই হোটেল লিজে দিয়েছিলেন। কলকাতার জোড়াসাঁকো এলাকার বাসিন্দা আবু জাফর। তাঁকে এন্টালি মার্কেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  ধৃতের বিরুদ্ধে গাফিলতি, অনিচ্ছাকৃত খুন-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে । মালিক বীরেশ্বর মিত্রের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। এই  ব্যক্তির মালিকানায় আরও একটি হোটেল রয়েছে। নাম , 'যাপন'। সেখানকার ২ জন কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তারাপীঠ-অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার কলকাতার নিউ মার্কেটের হোটেলে   আগুন লাগে । মিরজা গালিব স্ট্রিটের ওপরে হোটেল 'শিখা ইন'-এর আগুনে মৃত্যু হয়  অন্তত ৯ জন আবাসিকের। প্রাণে বাঁচতে কেউ ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দেন।  কেউ আশ্রয় নেন হোটেলের বাথরুমে। এই ঘটনায় SIT গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।  আর কত মানুষের প্রাণ গেলে হুঁশ ফিরবে প্রশাসনের? না কি এভাবেই চলবে, কোনওদিন কারও হুঁশ ফিরবে না?        

Post a Comment

Previous Post Next Post