পানমশলায় আর প্লাস্টিকের প্যাকেট নয়, টিন ও কাচ ব্যবহারের নির্দেশ FSSAI-এর


পানমশলার প্যাকেট নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। এ বার থেকে পানমশলা প্যাকেজিংয়ে ব্যবহার করা যাবে না প্লাস্টিক। এমনকী, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল বা মেটালাইজড স্তরও রাখা যাবে না প্যাকেটে। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) পানমশলার জন্য চালু করল নতুন প্যাকেজিং বিধি।

খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিং সংক্রান্ত নিয়মে এই বড় বদল এনেছে FSSAI। সোমবার, ১০ আগস্ট, গেজ়েট অফ ইন্ডিয়াতে প্রকাশিত ‘খাদ্য সুরক্ষা ও মান (প্যাকেজিং) সংশোধনী, ২০২৬’-এর মাধ্যমে এই পরিবর্তনগুলির কথা জানিয়েছে। ১০ অগস্ট গেজ়েট অফ ইন্ডিয়ায় সংশোধিত নিয়ম প্রকাশিত হয়েছে এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই তা কার্যকর হয়েছে।

ঠিক কী বদল হলো?

নতুন নিয়মে পানমশলা প্রস্তুতকারকদের প্যাকেজিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে প্লাস্টিকমুক্ত কাগজ, পেপারবোর্ড, সেলুলোজ বা অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান। পাশাপাশি টিন ও কাচের পাত্রেও পানমশলা প্যাক করা যাবে।

পানমশলা প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দিষ্ট উপাদান ব্যবহার করা যাবে না তার মধ্যে প্রধান প্লাস্টিক। এমনকী কাগজ, পেপারবোর্ড, সেলুলোজ কিংবা প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি অন্য কোনও উপাদানে প্যাকেজিং হলেও ভিতরে কোনও প্লাস্টিক থাকা চলবে না। অর্থাৎ শুধু বাইরে কাগজের মোড়ক দিলেই হবে না। প্যাকেটের ভিতরে যদি প্লাস্টিকের কোনও স্তর, সিন্থেটিক পলিমার কিংবা মেটালাইজড লেয়ার থাকে, তা হলেও সেই প্যাকেজিং নতুন নিয়মের আওতায় বাতিল হয়ে যাবে।

FSSAI স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্যাকেজিংয়ে ব্যবহার করা যাবে না—

  • পলিথিন (Polyethylene)

  • পলিপ্রোপিলিন (Polypropylene)

  • পলিয়েস্টার (Polyester)

  • পলিভিনাইল ক্লোরাইড বা PVC

  • অন্যান্য সিন্থেটিক পলিমার

  • কো-পলিমার

  • প্লাস্টিক ল্যামিনেট

  • অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল

  • মেটালাইজড লেয়ার

ফলে এতদিন পানমশলার ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত প্লাস্টিক বা মাল্টিলেয়ার প্লাস্টিক পাউচের ব্যবহার কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।

শুধু প্লাস্টিক নয়, বাদ অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলও

নতুন নিয়মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, শুধুমাত্র প্লাস্টিকের প্যাকেট নয়, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এবং মেটালাইজড লেয়ারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে নির্ধারিত প্যাকেজিং উপাদানের ক্ষেত্রে।

অনেক প্যাকেট বাইরে থেকে কাগজের মতো দেখতে হলেও ভিতরে প্লাস্টিক বা মেটালাইজড স্তর থাকে। নতুন নিয়মে এই ধরনের প্যাকেটও চলবে না। ফলে পানমশলা প্রস্তুতকারকদের প্যাকেজিংয়ের গোটা কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনা করতে হতে পারে।

কেন এমন সিদ্ধান্ত?

পানমশলার মতো পণ্যের ছোট ছোট প্লাস্টিক পাউচ দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ। কারণ, মূলত তা প্লাস্টিকের বর্জ্য। নতুন নিয়মের মাধ্যমে খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিংকে আরও পরিবেশবান্ধব ও দূষণমুক্ত করার দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। FSSAI-এর পান মশলার প্যাকেজিং সংক্রান্ত নিয়মকে Plastic Waste Management Rules, 2016-এর নির্দিষ্ট নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নির্মাতাদের সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় পান মশলা প্রস্তুতকারকদের সামনে একাধিক পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। পুরোনো প্যাকেজিংয়ের পরিবর্তে নতুন উপাদান বেছে নেওয়া, নতুন সরবরাহকারী খোঁজা, প্যাকেজিংয়ের নকশা বদলানো এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে হবে।

প্যাকেটের উপাদান বদলানোর সঙ্গে উৎপাদন, পরিবহণ ও প্যাকেজিংয়ের খরচও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রোডাক্টের দামেও প্রভাব পড়তে বাধ্য। সংস্থাগুলিকে নতুন প্যাকেজিং পরীক্ষা করে তার মান যাচাই করতে এবং গোটা সাপ্লাই চেনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে পানমশলার ব্যবসার পরিমাণ প্রায় ৪৮ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা।

Post a Comment

Previous Post Next Post