দেশের ১৫টি সাইবার ক্রাইমে কলকাতার ১০ সিম কার্ড, ধৃত ৩



অনেক ক্ষেত্রেই সাইবার অপরাধের অন্যতম হাতিয়ার বেআইনি সিম কার্ড, যা ইস্যু করার সময়ে ভুয়ো ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১৫টি সাইবার জালিয়াতির ঘটনায় যোগ থাকা ১০টি সিম কার্ড বেআইনি ভাবে কলকাতা থেকে ইস্যু করা হয়েছিল বলে গোয়েন্দারা জেনেছেন। তদন্তকারীদের বক্তব্য, এ ক্ষেত্রে ভুয়ো ঠিকানা ব্যবহার করে, ভুয়ো দোকান দেখিয়ে টেলিকম সংস্থার পয়েন্ট অফ সেল (পিওএস) হাসিল করা হয়েছিল এবং সেখান থেকে বেআইনি ভাবে ইস্যু করা হয়েছিল সিম কার্ড। তার পরে সেই সব সিম কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছিল সাইবার অপরাধীদের হাতে। অর্থাৎ, দেশ জুড়ে চলা সাইবার অপরাধের একটি চক্রের শিকড়ের সন্ধান পাওয়া গেল খাস কলকাতায়। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে শনিবার তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে যাদবপুর থানার পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল।

সাইবার জালিয়াতিতে জড়িতদের বেআইনি সিম কার্ড বিক্রি করার অভিযোগে মাস ছয়েক আগে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল উত্তর কলকাতা থেকে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছিল।

লালবাজার সূত্রের খবর, জাতীয় সাইবার অপরাধ রিপোর্টিং পোর্টালের একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়ে কলকাতার একটি দোকান নিয়ে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাদের সন্দেহ হয়। নথিতে দোকানটির ঠিকানা হিসেবে বাঘাযতীন কলোনির কথা উল্লেখ করা ছিল। যদিও তদন্তে দেখা যায়, ওই ঠিকানায় কোনও দোকানের অস্তিত্ব নেই। আসলে ওই ঠিকানা দেখিয়ে বেআইনি ভাবে ১০টি সিম কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল। যে সিম কার্ডগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হওয়া অন্তত ১৫টি সাইবার অপরাধে।

ওই ঘটনায় শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর যাদবপুর থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়। তার পরে তদন্তকারীরা অভিযান চালিয়ে পিন্টু ঘোষ, রাজীব পাসওয়ান ও বাবুসোনা হালদারকে গ্রেপ্তার করেন। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ‘রাহুল আগরওয়াল’ নাম ভাঁড়িয়ে এবং সিল ব্যবহার করে পয়েন্ট অফ সেল (পিওএস)–এর অনুমোদনের চিঠিতে সই আসলে করেছিলেন পিন্টু ঘোষ। আবার, ‘মা ভ্যারাইটিজ়’-এর মালিক বাবুসোনার কাছ থেকে সিম সংগ্রহ করে ‘ছোটু’ নামের এক ব্যক্তির কাছে সেগুলি বিক্রি করতেন রাজীব।

Post a Comment

Previous Post Next Post