জামিন পেলেও ‘বিপদ’ যেন পিছু ছাড়ছে না পিংলার প্রাক্তন বিধায়ক তথা পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি অজিত মাইতির। বুধবার ভোরে তাঁর গাড়িচালকের বাড়িতে তল্লাশি চালাল পুলিশ। তল্লাশি অভিযানে একাধিক চাকরিপ্রার্থীর বায়োডেটা, বিভিন্ন অ্যাডমিট কার্ডের ফোটোকপি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি-সহ একটি ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। উদ্ধার হওয়া নথিপত্র ঘিরে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে অজিতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত।
অজিতের বিরুদ্ধে দলের বিশেষ পদ পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আইসিডিএসে চাকরি দেওয়ার নাম করেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই মঙ্গলবার জামিন পেয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক। তবে জামিন মঞ্জুর হলেও এখনও জেলমুক্তি হয়নি তাঁর। এর পরের দিনই তাঁর গাড়িচালকের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন তদন্তকারীদের একাংশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোর ৪টে নাগাদ খড়্গপুর লোকাল থানার ফুলগেড়িয়া এলাকায় প্রণব মণ্ডলের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশের একটি দল। বেশ কিছু ক্ষণ ধরে চলে তল্লাশি অভিযান। বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বেশ কিছু নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হয় বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত একাধিক নথি এবং একটি ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশের দাবি, প্রণবের বাড়ি থেকে বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডের ফোটোকপি, বেশ কয়েক জন চাকরিপ্রার্থীর বায়োডেটা এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ল্যাপটপও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নথিগুলি তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
তবে এখানেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। পেশায় গাড়িচালক প্রণব মণ্ডলের বাড়িতে এত চাকরিপ্রার্থীর বায়োডেটা কী ভাবে এল? সরকারি পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডের ফোটোকপিই বা তাঁর কাছে কেন ছিল? চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ অজিতের বিরুদ্ধে উঠেছে, উদ্ধার হওয়া নথিগুলির সঙ্গে সেই অভিযোগের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিই এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বিশেষ করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ওই নথিতে কোনও আর্থিক লেনদেনের তথ্য রয়েছে কি না, চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত ল্যাপটপটিও তদন্তকারীদের নজরে। সেখানে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য, যোগাযোগ বা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কোনও তথ্য রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হতে পারে।
পুলিশের তদন্তে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—প্রণব মণ্ডলের সঙ্গে অজিত মাইতির যোগাযোগ এবং তাঁর ভূমিকা। গাড়িচালক হিসেবে প্রাক্তন বিধায়কের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দিনের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্রের সঙ্গে অজিতের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অজিতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ইতিমধ্যেই চলছে। তার মধ্যেই জামিনের পরদিন গাড়িচালকের বাড়িতে পুলিশের এই তল্লাশি এবং নথি উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া নথিগুলির সঙ্গে অজিতের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। পুলিশও সেই বিষয়টিই খতিয়ে দেখছে।
অন্য দিকে, জামিন পেলেও এখনও জেলমুক্তি না হওয়ায় অজিতের আইনি জটিলতাও কাটেনি। এর মধ্যেই তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত গাড়িচালকের বাড়ি থেকে একের পর এক নথি উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত কোন দিকে গড়ায়, এখন সে দিকেই নজর।