‘ভ্যানিশ কুমার চোর, ভ্যানিশ কুমার ডাকাত, এক মিনিটও পদে থাকা উচিত নয়’, জোটের বৈঠকের পর দিল্লি থেকে জোরাল বার্তা মমতার



কলকাতা: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সেই আবহে দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী I.N.D.I.A জোটের বৈঠক হল। আর সেই বৈঠক থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উপর চাপ বাড়ালেন বিরোধীরা। নির্বাচন কমিশন নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের 'হাতের পুতুল' বলে কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে। ২ অক্টোবর থেকে 'গণতন্ত্র বাঁচাও' যাত্রার ঘোষণা করলেন তিনি। আর তাঁর পাশে বসেই জ্ঞানেশের পদত্যাগের জোরাল দাবি তুললেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। পাশাপাশি, ১ নভেম্বর দিল্লিতে বিরাট মিছিল হবে।
বুধবার দিল্লিতে I.N.D.I.A জোটের বৈঠক শেষ হওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠক করেন সনিয়া গাঁধী, রাহুল গাঁধী, মল্লিকার্জুন খড়গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া এবং বিরোধী শিবিরের অন্য নেতারা। খড়গের পরই মমতাকে কিছু বলার অনুরোধ জানানো হয়। আর তাতেই গর্জে ওঠেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, "আমরা ঐক্যবদ্ধ, একজোট। এর চেয়ে বড় দুর্নীতি আগে হয়নি। বিহারে রাহুল গাঁধী, তেজস্বী যাদব ভোটচুরির কথা বলেছিলেন। ২০২৪ সালে ভোট চুরি করে জিতেছে বিজেপি। মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহারেও ভোট চুরি করে জিতেছে। বাংলায় পুরোটাই লুঠ করেছে। আমরা এখানে কমিশনের কাছে গিয়েছিলাম। সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি। কড়া নেড়েছি সব দরজায়। আর এখন তো সব প্রকাশ্যে।"
আক্রমণের সুর চড়িয়ে সরাসরি জ্ঞানেশকে আক্রমণ করেন মমতা। বলেন, "ভ্যানিশ কুমার চোর, ভ্যানিশ কুমার ডাকাত। ভোট চুরি করেছেন, EVM পুড়িয়েছেন। হাইজ্যাক করেছেন EVM. গণনায় কারচুপি হয়েছে। অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে ওঁকে। এখনই করতে হবে, করতেই হবে। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে আমাদের। মানুষের নিরাপত্তা, ভোটাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার...মানুষের কাছে দায়বদ্ধ আমরা। মানুষ যদি ভোট দিতে না পারেন, তাঁদের ভোট যদি চুরি হয়, দেশ কোথায় যাবে? অনুরোধ নয়, আমাদের জোরাল দাবি। ভ্যানিশ কুমারকে না সরালে আন্দোলন অনেক দূর যাবে। মাটি থেকে আকাশ, চাঁদ, সূর্যে পৌঁছবে আন্দোলন। একসঙ্গে লড়তে হবে আমাদের। কেন ভোট লুঠ করেছে? EVM মেশিন পোড়ালেন কেন? সীমা খান্না কে? সফ্টওয়্যার কোথা থেকে এল? বাংলায় ৯২ লক্ষ লুঠ করেছে। গোটা দেশে ১৩ কোটির বেশি। ERO-দের ডেডলক করে দিলেন! সিস্টেমকে শেষ করে দিয়েছেন। এক মিনিটও পদে থাকা উচিত নয় ওঁর। এখনই ইস্তফা দেওয়া উচিত। মানুষকে অনুরোধ, বিরোধী জোট কর্মসূতি শুরু করছে। আমাদের বেরোতে দেয় না বাড়ি থেকে। তাও আমরা সবাই শামিল হব। আমাদের না হয় বেরোতে দেবে না। ওরা কোথায় যাবে? গণতন্ত্র ফেরাতে, সংবিধান বাঁচাতে আমরা লড়ব, জিতব। এর জন্য প্রাণ বাজি রাখতেও প্রস্তুত আমরা। ছাত্রছাত্রী, মহিলা, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সকলের সমর্থন প্রার্থনা করছি।" (Mamata Banerjee)

Post a Comment

Previous Post Next Post