ছেঁড়া হল মুখ্যমন্ত্রীর কাটআউট, দলের লোগো! মন্ত্রী পূর্ণিমার অফিসে ‘হামলা’ দুষ্কৃতীদের


মঙ্গলবার গভীর রাতে মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের অফিসে হামলার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে অফিসে ঢুকে ব্যানার, পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। ধারালো কোনও বস্তু দিয়ে কেটে দেওয়া হয়েছে বিজেপির লোগোও। শুধু তাই নয়, অফিসের বাইরে থাকা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাটআউটের মুখের অংশও ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বুধবার সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রায় আড়াইটে থেকে ৩টের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। সকালে বিজেপি নেতা-কর্মীরা অফিসে পৌঁছে প্রথমে বিষয়টি দেখতে পান। তাঁদের দাবি, অফিসের সামনে থাকা একাধিক ব্যানার ও পোস্টার ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। বিজেপির লোগো থাকা অংশগুলি ধারালো কোনও বস্তু দিয়ে কেটে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর কাটআউটের মুখের জায়গাতেও ছেঁড়ার চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়।
অভিযোগ, শুধু অফিসের বাইরের ব্যানার-পোস্টারেই হামলা চালানো হয়নি। অফিসের ভিতরেও ভাঙচুরের চেষ্টা হয়েছে। সকালে দলের কর্মীরা অফিসে এসে এই পরিস্থিতি দেখতে পেয়ে স্বাভাবিক ভাবেই বিস্মিত হয়ে পড়েন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পথচলতি মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়ায় বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত বটতলা থানায় জানানো হয়। পরে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। অফিস এবং আশপাশের এলাকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার দাবিও উঠেছে।
মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এই ঘটনার পিছনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। যদিও সেই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
রাতের অন্ধকারে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে এই ধরনের হামলার অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর কাটআউটের মুখের অংশ ছিঁড়ে দেওয়ার ঘটনায় বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দলীয় কার্যালয় বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি ও প্রচারসামগ্রীতে এ ভাবে হামলা চালানো কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, ঠিক কী ভাবে হামলার ঘটনা ঘটল, কারা সেখানে এসেছিল এবং ঘটনার পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না। সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার দিকেই নজর তদন্তকারীদের।

Post a Comment

Previous Post Next Post