শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছর পার, প্রাথমিক স্তরে শেষই করা যায়নি ইন্টারভিউ, হতাশ প্রার্থীরা


প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি নিয়োগ প্রক্রিয়া। ১৩,৪২১টি শূন্যপদে নিয়োগের লক্ষ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও প্রায় অর্ধেক পদের জন্য ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে চাকরিপ্রার্থীদের। তাঁদের প্রশ্ন, সরকার বদলালেও তাঁদের ভাগ্যের কি কোনও পরিবর্তন হবে না? যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পেতে কি ফের রাস্তায় নামতে হবে?
২০২২ সালে টেট উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এই প্রার্থীদের অনেকেই। দীর্ঘ অপেক্ষার পর একাধিক আন্দোলন ও দাবির পর অবশেষে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নিয়োগ নিয়ে আশার আলো দেখা দিয়েছিল। ৩১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ইন্টারভিউ প্রক্রিয়াও। ধাপে ধাপে প্রার্থীদের ইন্টারভিউ নেওয়ার কাজ এগোচ্ছিল।
প্রথম থেকে চতুর্থ দফার ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম থেকে দশম দফার ইন্টারভিউ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে পর্ষদ। নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম—এই জেলাগুলির প্রার্থীদের ইন্টারভিউ নেওয়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী পঞ্চম পর্যায়ে নদিয়া জেলার ইন্টারভিউ গত ১৯ মার্চ শেষ হয়। ষষ্ঠ পর্যায়ে ২৩ মার্চ থেকে পুরুলিয়া জেলার প্রার্থীদের ইন্টারভিউ শুরু হয়েছিল।
এরই মধ্যে সামনে চলে আসে বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর আদৌ ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চালানো যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। পরে গত এপ্রিল মাসে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে জানানো হয়, ২৭ মার্চ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চেয়ে স্কুলশিক্ষা দফতরকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। ৩০ মার্চ সেই চিঠি পর্ষদের হাতে পৌঁছয়। ওই দিনই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।
এর পর ১ এপ্রিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেওয়া হয়। নির্বাচনী পর্ব মিটে যাওয়ার পর নতুন সরকারও গঠিত হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্থগিত থাকা ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়নি। ফলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছর পূর্ণ হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যত মাঝপথেই আটকে রয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। টেট উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একাধিকবার আন্দোলন ও দাবি জানানোর পর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় তাঁদের হতাশা আরও বাড়ছে।
প্রার্থীদের বক্তব্য, সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছিল। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, আটকে থাকা ইন্টারভিউ দ্রুত শুরু হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াও শেষ করা হবে। কিন্তু এখনও সেই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, কবে শেষ হবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া? কবে মিলবে চাকরি? যোগ্যতা অর্জনের পরও বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে।

Post a Comment

Previous Post Next Post