রেকির দায়িত্বে তরুণী, হাতসাফাইয়ে দুই তরুণ! ক্যাফে ব্যবসার ক্ষতিপূরণে শতাধিক চুরি করে শ্রীঘরে ত্রিমূর্তি


নয়ডা: ক্যাফে ব্যবসায় বড়সড় লোকসানের পর ঋণের বোঝা সামলাতে বেআইনি পথে টাকা উপার্জনের অভিযোগ উঠল এক যুগল ও তাঁদের এক বন্ধুর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিন জনের ওই দলটি নয়ডা এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসনে ঢুকে চুরি করত। ইতিমধ্যে শতাধিক চুরির ঘটনায় তাঁদের যোগ থাকার দাবি করেছে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত তিন জনকেই গ্রেফতার করেছে নয়ডা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুলন্দশহরের বাসিন্দা কৈলাস এবং বিহারের সোনালি সম্পর্কে ছিলেন। নয়ডায় একসঙ্গে থেকে তাঁরা একটি ক্যাফে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই ব্যবসা লাভজনক হয়নি। বিনিয়োগের টাকাও পুরোপুরি উঠে আসেনি বলে অভিযোগ। পরে ক্যাফেটি নয়ডা থেকে গুরুগ্রামে সরিয়ে নিয়ে গেলেও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। বরং ঋণের বোঝা আরও বাড়তে থাকে। এরপরই তাঁরা চুরির পথ বেছে নেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
এই কাজে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন বন্ধু ইরফান। পুলিশের অভিযোগ, তিন জন মিলে অভিনব কায়দায় আবাসনগুলিকে নিশানা করতেন। সোনালির দায়িত্ব ছিল মূলত রেকি করা। তিনি বিভিন্ন আবাসনে গিয়ে কোন কোন ফ্ল্যাটে তালা রয়েছে এবং কোন ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক ভাল বলে মনে হচ্ছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন। পরে সেই তথ্য দুই যুবকের হাতে তুলে দেওয়া হত।
এর পর দুই যুবক গাড়ি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আবাসনে গিয়ে চুরির ঘটনা ঘটাতেন বলে পুলিশের দাবি। নিজেদের পরিচয় আড়াল করতে তাঁরা মুখ ঢেকে রাখতেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। মূলত নগদ টাকা, গয়না, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ-সহ সহজে বহনযোগ্য সামগ্রীই তাঁদের নিশানায় থাকত।
তদন্তকারীদের দাবি, চুরি করা অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিন জন বিলাসী জীবনযাপন করতেন এবং নৈশক্লাবে সময় কাটাতেন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে নয়ডার সেক্টর ১২৩-এর একটি গোরস্থানের সামনে থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা, সোনা ও রুপোর গয়না, পাঁচটি ল্যাপটপ, দু’টি ট্যাবলেট এবং ছ’টি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি চারচাকার গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গাড়িটির নম্বরপ্লেট নিয়েও কারসাজি করা হয়েছিল বলে পুলিশের অভিযোগ।
প্রাথমিক তদন্তে নয়ডা ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক চুরির ঘটনায় তাঁদের যোগ থাকার কথা সামনে এসেছে। মথুরার একাধিক থানাতেও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই চক্রের পরিধি আরও বড় হতে পারে এবং এর সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও ল্যাপটপ কোথায় বিক্রি করা হত, সেই সূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্তের জন্য দু’টি দল গঠন করেছে নয়ডা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চুরি হওয়া আরও সামগ্রী এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের সন্ধান চালানো হচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post