ভাইকে নিয়ে কুমন্তব্যে ননদকে কুপিয়ে খুন গৃহবধূর, ট্যাঙ্কে দেহ লুকিয়েও মিলল না রেহাই


নিজস্ব সংবাদদাতা: ভাইকে নিয়ে কুমন্তব্য করায় ননদের সঙ্গে বচসা। সেই বিবাদই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনল বলে অভিযোগ। ননদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের পর দেহ লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন এক গৃহবধূ। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করেই মৃতার সঙ্গে অভিযুক্ত গৃহবধূর বেশ কিছুদিন ধরে অশান্তি চলছিল। অভিযোগ, অভিযুক্তের ভাইকে নিয়ে ননদ নানা ধরনের কুমন্তব্য করতেন। সেই বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে।
ঘটনার দিনও দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় বলে অভিযোগ। বচসার মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই অভিযুক্ত গৃহবধূ ননদের উপর হামলা চালান বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। গুরুতর জখম অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
এরপর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। ননদের দেহ একটি ট্যাঙ্কের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের কাছে যাতে সন্দেহ না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই দেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে পুলিশের অনুমান।
কিন্তু বেশিদিন রহস্য চাপা থাকেনি। ননদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর শুরু হয় খোঁজখবর। তদন্তে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়তেই সন্দেহের তির ঘুরে যায় অভিযুক্ত গৃহবধূর দিকে।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা ট্যাঙ্ক থেকে দেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুন এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক বিবাদই মূল কারণ কি না, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও বিষয় রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ননদকে ঘিরে পারিবারিক অশান্তি কী ভাবে এমন ভয়াবহ ঘটনায় পরিণত হল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত এগোলেই ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Post a Comment

Previous Post Next Post