আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট, বুঝতে হবে বন্ধু দেশগুলিকেও! আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বললেন জয়শঙ্কর


আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে ফের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে ঘিরে কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিলেন তিনি। জয়শঙ্করের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ এবং অবস্থানকে বন্ধু দেশগুলিকেও সঠিক ভাবে বুঝতে হবে। তা না হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়তে পারে।
নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের একাধিক দিক নিয়ে কথা বলেন জয়শঙ্কর। আলোচনায় উঠে আসে দুই দেশের মধ্যে চলতে থাকা বাণিজ্য আলোচনা, শুল্ক সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন কূটনৈতিক জটিলতা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক। তাঁর বক্তব্যে বার বারই স্পষ্ট হয়েছে, ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এখনও দু’দেশের মধ্যে মতপার্থক্য বা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনা চলছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদল একাধিক বার আলোচনায় বসলেও এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। সেই প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, ‘‘বাণিজ্য আলোচনার জটিলতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছু বাধা-বিপত্তি ঘটিয়েছে।’’ যদিও একই সঙ্গে তিনি জানান, বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে একটি বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বোঝাপড়া কী আকার নেবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে বাণিজ্যের পাশাপাশি জয়শঙ্করের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘‘ভারতের কাছে সন্ত্রাসবাদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং উদ্বেগের বিষয়। আমরা মনে করি, খুব কম দেশই আছে, যারা আমাদের মতো প্রতিবেশীর ছড়ানো সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে।’’ তাঁর এই মন্তব্যে পাকিস্তানের নাম সরাসরি না নেওয়া হলেও প্রতিবেশী দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর বিষয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানই ফের স্পষ্ট হয়েছে।
জয়শঙ্করের বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই যে, ভারত তার বিদেশনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছে। তাঁর কথায়, বন্ধু দেশগুলিকে ভারতের এই অবস্থান বুঝতে হবে। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগকে যদি যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তা হলে তার প্রভাব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও পড়তে পারে।
এ ক্ষেত্রে আমেরিকার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বার মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমেরিকা-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা ঘনিষ্ঠতা দেখা গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং সে দেশের সেনাপ্রধান আসিম মুনির-সহ একাধিক শীর্ষকর্তা সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা সফর করেছেন। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কের এই পরিবর্তন নয়াদিল্লির নজরে রয়েছে বলেই কূটনৈতিক মহলের একাংশের মত।
এই পরিস্থিতিতেই জয়শঙ্কর মনে করিয়ে দিয়েছেন, অতীতে আমেরিকাও সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে। ফলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকার নিজস্ব অভিজ্ঞতাও রয়েছে। সেই কারণে ভারতের উদ্বেগ এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান ওয়াশিংটনের বোঝা উচিত বলেই তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত।
সব মিলিয়ে নিউ ইয়র্কের অনুষ্ঠানে জয়শঙ্করের বক্তব্যে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের সম্ভাবনা যেমন উঠে এসেছে, তেমনই সেই সম্পর্কের সামনে থাকা জটিলতার কথাও স্পষ্ট হয়েছে। বাণিজ্য, শুল্ক এবং পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক—এই সব বিষয়কে কেন্দ্র করে যে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তার মধ্যেই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিলেন বিদেশমন্ত্রী।

Post a Comment

Previous Post Next Post