বোলপুরে বিজেপি নেতাকে গুলি করে খুনের ঘটনার তদন্তে বড় অগ্রগতি পুলিশের। ঘটনার দু’দিনের মধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম শেখ আনারুল এবং দীপঙ্কর রায়। মঙ্গলবার তাঁদের বোলপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই খুনের পিছনে সরাসরি রাজনৈতিক কারণ না-ও থাকতে পারে। বরং জমি সংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিবাদ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে।
রবিবার সন্ধ্যায় বোলপুরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মতিপুকুর রাইস মিল সংলগ্ন রাস্তায় গুলি করে খুন করা হয় বিজেপির বুথ সভাপতি চন্দন ভাল্লাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সময় রাস্তায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। রাজনৈতিক নেতা খুনের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এর পিছনে রাজনৈতিক শত্রুতা রয়েছে কি না।
চন্দনের পরিবারের দাবি ছিল, ফোন করে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার পরেই তাঁকে গুলি করা হয়। তবে কে বা কারা তাঁকে ফোন করে ডেকেছিল এবং কী কারণে তাঁকে সেখানে যেতে বলা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রথম দিকে স্পষ্ট কোনও তথ্য দিতে পারেনি পরিবার। তদন্তে নেমে পুলিশ স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের পাশাপাশি চন্দনের পরিচিতদেরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেখ আনারুল এবং দীপঙ্কর রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে আনারুল পেশায় ছোট ব্যবসায়ী। বোলপুরের আরতি মোড়ে তাঁর একটি মোবাইলের দোকান রয়েছে। অন্য দিকে, দীপঙ্কর জমি কেনাবেচার দালালি করেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের সঙ্গে চন্দনের জমি সংক্রান্ত কোনও লেনদেন বা বিবাদ ছিল কি না, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বীরভূম জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে জমি সংক্রান্ত লেনদেন এবং ব্যক্তিগত বিবাদের বিষয়টি সামনে এসেছে। সেই কারণেই খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক কারণের বদলে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা জমি নিয়ে বিরোধের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে শুধু জমি সংক্রান্ত বিবাদকেই খুনের একমাত্র কারণ বলে মনে করছে না পুলিশ। আরও কোনও কারণ বা পুরনো বিরোধ ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের নজরে এখন মূলত খুনের সঙ্গে জড়িত বাকিদের ভূমিকা। ধৃত দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের পরিকল্পনা, ঘটনাস্থলে তাঁদের উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য যোগসাজশ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে, ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি চালানো শুটারদেরও খোঁজ চলছে। শুটাররা কার নির্দেশে হামলা চালিয়েছিল এবং ঘটনার আগে ও পরে তাঁদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিল, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।
চন্দন ভাল্লার খুনের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। আপাতত রাজনৈতিক খুনের তত্ত্বের পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত বিবাদ ও ব্যক্তিগত শত্রুতার দিকটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। শুটারদের গ্রেফতার এবং খুনের প্রকৃত কারণ সামনে আনাই এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য।