নিউটাউনে হতে চলেছে ২০০০ শয্যার মেগা হাসপাতাল ‘আদানি আরোগ্য নিকেতন’
আদানির প্রধানমন্ত্রীর মত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্ক খুবই নিবিড়। মুখ্যমন্ত্রীর ধারণা আদানির হাত ধরেই রাজ্যে আসতে চলেছে বিপুল বিনিয়োগ। এই মুহূর্তে 'আদানি আরোগ্য নিকেতন' গঠনের জন্য তৎপরতা তুঙ্গে। বুধবারও ৩২টি সংস্থাকে জমি হস্তান্তর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও চিকিৎসাকেন্দ্রিক পরিকাঠামোয় বড় পদক্ষেপ। নিউটাউনে গড়ে উঠতে চলেছে ২,০০০ শয্যার মেগা হাসপাতাল ‘আদানি আরোগ্য নিকেতন’। আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যে এসেছেন গৌতম আদানি। নিউটাউন অ্যাকশন এরিয়া-২-এর ৫১.৭৫ একর জমিতে আদানি গোষ্ঠীর এই সুবিশাল প্রকল্পের আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমিপুজো ও শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাথমিক ভাবনায় ১,০০০ শয্যার কথা থাকলেও স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ বাড়াতে বিশেষ প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ২,০০০ শয্যা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নবান্ন সূত্রে খবর, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক দফায় ১,২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। পরবর্তীতে নির্মাণকাজ চলাকালীন আরও ১,৮০০ কোটি টাকা যুক্ত হয়ে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকারও বেশি।
প্রকল্পটির সামাজিক দিক সুনিশ্চিত করতে হাসপাতালের ১,০০০টি শয্যা সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের জন্য সম্পূর্ণ নিখরচায় অথবা নামমাত্র মূল্যে সংরক্ষিত রাখা হবে। পাশাপাশি এখানে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সুবিধাও মিলবে। বাকি ১,০০০টি শয্যা বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হবে। আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে হাসপাতালটির বৈশ্বিক পরামর্শদাতা (গ্লোবাল কনসালট্যান্ট) হিসাবে যুক্ত রয়েছে আমেরিকার বিশ্বখ্যাত ‘মায়ো ক্লিনিক’। রাজ্য সরকার জমির চরিত্র বদল ও বিভিন্ন ছাড় বাবদ প্রায় ১,৯৬৭ কোটি টাকা রাজস্ব মকুব করেছে। নবান্নের হিসেব অনুযায়ী, হাসপাতালটি পুরোদমে চালু হলে রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থান, চিকিৎসা-পর্যটন ও গবেষণার মাধ্যমে বার্ষিক প্রায় ৪,০৮৫ কোটি টাকার আর্থিক সুফল আসবে।