জিতিয়ে দিতে পারতেন! একুশে নন্দীগ্রামে মমতাকে সমর্থন করতে চেয়েছিলেন মিলন



২০২১-এর ১৮ জানুয়ারি। নন্দীগ্রামের তেখালির জনসভায় বিপুল জমায়েত দেখে আবেগাপ্লুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের তৎকালীন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে পাশে ডেকে ঘোষণা করেছিলেন নন্দীগ্রাম আসন থেকে ভোটে লড়বেন তিনি। কাট টু ২০২৬, নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান এই আসনে প্রার্থী। ১৯ বছর আগের মামলায় জেলবন্দী। এই আবহেই সামনে এসেছে একুশের নির্বাচনের আগে চমকে দেওয়ার মতো এক তথ্য। মমতা নিজেকে নন্দীগ্রামের প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। বাম-কংগ্রেস জোটে নন্দীগ্রাম আসন হাতছাড়া হয়েছে কংগ্রেসের। ২০০৭-এ ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটিকে সামনে রেখে যে লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে রাজ্যে পালাবদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মমতা, তিনি নিজে নন্দীগ্রামে দাঁড়াতে চেয়েছেন শুনে তাঁর সমর্থনে অন্তত চার হাজার ভোট জোগাড়ের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন এই মিলন প্রধান। সেই খবর পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন কালীঘাটে মমতার কাছে। কিন্তু আক্ষেপ, খবর মমতার কান পর্যন্ত তো দূর, তার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি।
কিন্তু কে এর জন্য দায়ী, কারাই বা মমতার কাছে মিলনের প্রস্তাব পৌঁছতে দেননি! সম্প্রতি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন এক সময় মমতার সঙ্গে থাকা মানিক ফকির। আরও অনেকের মতোই তাঁর উপর দায়িত্ব ছিল মূলত নির্বাচনের সময় কঠিন নানা আসনের হাল-হকিকত তৃণমূলনেত্রীকে জানানো। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, নন্দীগ্রামে তৃণমূলের ভিতরেই একপ্রকার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এক রাজ্য নেতার বক্তব্য, “ষড়যন্ত্র যা হয়েছিল তার অনেক খবরই আমাদের কাছে আসেনি। আবার যাঁরা সমর্থন করতে চেয়েছিলেন তাঁরাও খবর পাঠাচ্ছিলেন। সেই খবরও দেওয়া হয়নি।” মানিক ফকির জানাচ্ছেন, “শুধু কালীঘাট নয়, নবান্নের দোরেও খবর পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম। অন্তত দুজন মন্ত্রী, একজন সাংসদ, এক আইপিএসের মাধ্যমে খবর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভেদ্য বর্ম ভেদ করতে পারিনি। তা না হলে নন্দীগ্রামের ফল হয়তো অন্যরকম হত।”

Post a Comment

Previous Post Next Post