বর্ষার মরসুমে ডেঙ্গির প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই রাজ্যের সমস্ত স্কুলে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিল স্কুলশিক্ষা দফতর। ডেঙ্গি প্রতিরোধের পাশাপাশি স্কুলগুলিকে আরও পরিচ্ছন্ন এবং পরিবেশবান্ধব করে তুলতে ‘গ্রিন স্কুল’ গড়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই মর্মে রাজ্যের স্কুলগুলির জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করেছে স্কুলশিক্ষা দফতর। নির্দেশিকাটি ইতিমধ্যেই সমস্ত স্কুল জেলা পরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
স্কুলশিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি নবান্নে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্কুলগুলিতে ডেঙ্গি প্রতিরোধ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই স্কুলগুলির জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করে তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় স্কুল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোথাও যাতে দীর্ঘ সময় জল জমে না থাকে, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি চালানোর কথা বলা হয়েছে। কারণ জমা জলেই ডেঙ্গির বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই স্কুলের আশপাশে, ছাদে, নিকাশি ব্যবস্থায় কিংবা অন্য কোনও জায়গায় জল জমে রয়েছে কি না, তা নিয়মিত খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি ডেঙ্গি নিয়ে পড়ুয়া, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গি কী ভাবে ছড়ায়, মশার বংশবিস্তার রুখতে কী ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন এবং জমা জল দ্রুত পরিষ্কার করার প্রয়োজনীয়তা—এই বিষয়গুলি সম্পর্কে পড়ুয়াদের জানাতে বলা হয়েছে। স্কুলের বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
শুধু স্কুলের ভিতরে সচেতনতা সীমাবদ্ধ না রেখে পড়ুয়াদের নিজেদের বাড়ি এবং এলাকায় ডেঙ্গি প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সক্রিয় করে তুলতে চায় স্কুলশিক্ষা দফতর। পড়ুয়ারা যাতে নিজেদের বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেয় এবং পরিবারের সদস্যদেরও এই বিষয়ে সতর্ক করে, সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্কুলকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর সমাজে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি স্কুলগুলিকে পরিবেশবান্ধব করে তোলার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর এবং সবুজ পরিবেশ তৈরি করে স্কুলগুলিকে ‘গ্রিন স্কুল’-এ পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুল চত্বরের পরিবেশ বজায় রাখা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যকর পরিকাঠামোর দিকে নজর দেওয়ার কথাও নির্দেশিকায় বলা হয়েছে।
স্কুলশিক্ষা দফতরের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, ডেঙ্গি প্রতিরোধকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পড়ুয়াদেরও তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা। স্কুলে সচেতনতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ুয়াদের পরিবার এবং স্থানীয় এলাকাতেও পড়বে বলে মনে করছে দফতর। ফলে ডেঙ্গি প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতার অভ্যাসও ছোট বয়স থেকেই গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।