কৌশিকী অমাবস্যায় জাগ্রত ছিন্নমস্তা মায়ের দর্শনে ঢল, সাহেবগঞ্জ সীমান্তে উপচে পড়ল ভক্তদের ভিড়



কৌশিকী অমাবস্যায় জাগ্রত ছিন্নমস্তা মায়ের দর্শনে ঢল, সাহেবগঞ্জ সীমান্তে উপচে পড়ল ভক্তদের ভিড়
দিনহাটা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে, বাংলাদেশ থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত ছিন্নমস্তা মায়ের মন্দির। কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও রাতে সেখানে অনুষ্ঠিত হল ঐতিহ্যবাহী ছিন্নমস্তা মায়ের পুজো। ৪৮তম বর্ষের এই পুজোকে ঘিরে এ বছরও রেকর্ড সংখ্যক ভক্তের সমাগমে উপচে পড়ে মন্দির চত্বর।
পুজোর দিন বিকেল থেকেই মন্দিরে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন পড়ে। বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে কাঁটাতারের গেট পেরিয়ে জিরো পয়েন্টের মন্দিরে পৌঁছন হাজার হাজার মানুষ। মায়ের দর্শন, পুজো ও মানতকে ঘিরে রাতভর চলে ভক্তদের ভিড়। কৌশিকী অমাবস্যার রাতে ভক্তদের জন্য সারারাত সীমান্তের গেট খোলা রাখা হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন বিএসএফ জওয়ান ও পুলিশকর্মীরা।
সাহেবগঞ্জের এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোককথা। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ছিন্নমস্তা মা অত্যন্ত জাগ্রত। কথিত রয়েছে, আশির দশকে ভয়াবহ খরার সময় এক তান্ত্রিকের পরামর্শে মায়ের পুজো শুরু হয়। পুজোর পর প্রবল বৃষ্টিপাতের ঘটনা থেকেই এই পুজো নিয়মিত হয়ে আসছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মায়ের কাছে মানত করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়—এই বিশ্বাসে প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা সাহেবগঞ্জে ছুটে আসেন।
এদিনের পুজোয় উপস্থিত ছিলেন দিনহাটার বিধায়ক অজয় রায় ও তাঁর স্ত্রী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সভাপতি, যুব সভাপতি-সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অতিথিরা।
রাতভর চলে মায়ের পুজো ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। মধ্যরাতে হয় বলি। এরপর যজ্ঞ শেষে ভোরবেলায় ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। সীমান্ত এলাকায় পুজো হওয়ায় সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশের পাশাপাশি বিএসএফের পক্ষ থেকেও ছিল কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারি।
কাঁটাতারের ওপারে জিরো পয়েন্টে ছিন্নমস্তা মায়ের এই ব্যতিক্রমী পুজোকে ঘিরে বৃহস্পতিবার রাতভর উৎসবের আবহ তৈরি হয় সাহেবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায়। ভক্তদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আবেগে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

Post a Comment

Previous Post Next Post