বিহারের বাঁকিপুর উপনির্বাচনে জয়ের পর এ বার কি দিল্লির রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন প্রশান্ত কিশোর? রবিবার রাজধানীতে জন সুরাজ পার্টির কর্মসূচিকে ঘিরে সেই জল্পনাই জোরালো হয়েছে। প্রাক্তন ভোটকুশলী তথা জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এ বার বিহারের গণ্ডি ছাড়িয়ে দিল্লিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
গত অগস্টে বাঁকিপুর উপনির্বাচনে জয় পাওয়ার পর প্রশান্ত কিশোর জানিয়েছিলেন, তাঁর লক্ষ্য বিহারের উন্নয়ন। সেই বক্তব্যের পর এ বার দিল্লিতে দলের সাংগঠনিক পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রবিবার দিল্লিতে দলীয় সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন পিকে। সেখানেই বাঁকিপুরে জয়ের জন্য তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি দলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবারের বৈঠকেই রাজধানী দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে জন সুরাজ পার্টির শাখা খোলার ঘোষণা করতে পারেন প্রশান্ত কিশোর। দলের সাংগঠনিক বিস্তার এবং দিল্লিতে রাজনৈতিক সম্ভাবনা যাচাইয়ের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।
জন সুরাজ পার্টির কোর কমিটির সদস্য তথা দিল্লির একটি কলেজের অধ্যাপক কুমার শান্তনু জানিয়েছেন, দিল্লিতে প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থকদের সংখ্যা বাড়ছে। তাঁদের একাংশ রাজধানীতে দলের একটি শাখা খোলার দাবি জানিয়েছেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই রবিবারের বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এখনই দিল্লির কোনও নির্বাচনে জন সুরাজ পার্টি সরাসরি লড়াই করবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কুমার শান্তনুর বক্তব্য, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগে দিল্লিতে দলের সাংগঠনিক শক্তি এবং রাজনৈতিক সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ, আপাতত দলের শাখা তৈরি এবং সংগঠন মজবুত করার দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে।
রবিবারের কর্মসূচিতে দলের সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফলে বৈঠকটি শুধুমাত্র সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি দিল্লিকে কেন্দ্র করে জন সুরাজের আগামী রাজনৈতিক পরিকল্পনারও আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
বিহারে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিজেদের জায়গা তৈরি করার পর রাজধানীতে সাংগঠনিক বিস্তারের এই উদ্যোগ জন সুরাজ পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দিল্লিতে নির্বাচনী রাজনীতিতে দলটি শেষ পর্যন্ত কতটা সক্রিয় হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রবিবারের বৈঠকের পরই সেই বিষয়ে আরও পরিষ্কার ছবি পাওয়া যেতে পারে।