নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সেই নাবালিকাকেই বাড়ি থেকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। প্রায় সাত মাস ধরে খোঁজ চালানোর পর শেষ পর্যন্ত ওড়িশা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে নাবালিকাকেও। উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া থানা এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম সিন্টু পাড়ুই। হাড়োয়া থানা এলাকার বাসিন্দা তিনি। স্থানীয় সূত্রের খবর, বছর খানেক আগে এক প্রতিবেশী মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন সিন্টু। ওই মহিলা আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর একটি নাবালিকা মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর সেই নাবালিকাও তাঁদের সঙ্গেই থাকত।
অভিযোগ, ২০২৫ সালে এক দিন স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ওই নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন করেন সিন্টু। ঘটনার পর তাঁর স্ত্রী পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করেছিল হাড়োয়া থানার পুলিশ। পরে আদালত থেকে জামিন পেয়ে জেল থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।
অভিযোগ, জামিনে মুক্তি পাওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই ফের নাবালিকাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান সিন্টু। এরপর তাঁর স্ত্রী আবারও পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত ওড়িশায় গিয়ে আত্মগোপন করেছেন। নাবালিকাও তাঁর সঙ্গে রয়েছে বলে জানতে পারেন তদন্তকারীরা।
এর পর থেকেই অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে হাড়োয়া থানার পুলিশ। বিভিন্ন সূত্র মারফত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাঁর সম্ভাব্য আস্তানাগুলির খোঁজ চালানো হয়। প্রায় সাত মাস ধরে চলা সেই তল্লাশির পর অবশেষে ওড়িশায় তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পান তদন্তকারীরা।
পুলিশের একটি দল ওড়িশায় গিয়ে একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই সিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়। একই জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয় ওই নাবালিকাকেও। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তকে দীর্ঘদিন ধরে খোঁজা হচ্ছিল। তদন্তের স্বার্থে তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে একাধিক সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।
জেলার এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই অভিযান চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত ওড়িশা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে নাবালিকাকেও।
শনিবার অভিযুক্তকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে। গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নাবালিকার বয়ান-সহ অন্যান্য তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আধিকারিকেরা।