আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন লিয়োনেল মেসি। বয়সও ৩৯-এর কোঠায়। কিন্তু বয়স যে তাঁর ফুটবল-জাদুতে কোনও প্রভাব ফেলেনি, তা বার বারই বুঝিয়ে দিচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে আরও এক বার চোখ ধাঁধানো গোল করলেন তিনি। কলম্বাস ক্রুয়ের বিরুদ্ধে এমন এক জায়গা থেকে ফ্রি কিকে সরাসরি গোল করলেন মেসি, যেখান থেকে সাধারণত গোলের সামনে বল ভাসানোর চেষ্টা করেন ফুটবলারেরা।
কলম্বাসের বিরুদ্ধে ম্যাচে শুরুটা অবশ্য মায়ামির পক্ষে ভাল হয়নি। ২৮ মিনিটের মাথায় গোল করে এগিয়ে যায় কলম্বাস। পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণে ঝাঁপায় মায়ামি। তারই মধ্যে ৩৩ মিনিটের মাথায় ফ্রি কিক পায় তারা।
ফ্রি কিক নেওয়ার জায়গাটি ছিল কর্নার ফ্ল্যাগের বেশ কাছাকাছি। এমন জায়গা থেকে সরাসরি গোলে শট নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। সাধারণত এই ধরনের পরিস্থিতিতে বক্সের মধ্যে বল ভাসিয়ে দেন ফুটবলারেরা। সতীর্থরা হেড করে সেই বল গোলে পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মেসির ভাবনাটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
বল সাজিয়ে নিজেই ফ্রি কিক নিতে এগিয়ে আসেন আর্জেন্টাইন তারকা। তার পর এমন নিখুঁত শটে বল মারেন যে কলম্বাসের গোলরক্ষক প্যাট্রিক শালটের কার্যত কিছুই করার ছিল না। দুরূহ কোণ থেকে বাঁক খাইয়ে বল পাঠিয়ে দেন দ্বিতীয় পোস্টের দিকে। বলের গতিপথ বুঝতেই পারেননি গোলরক্ষক। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়িয়ে যায় বল।
মেসির সেই গোলেই ম্যাচে সমতা ফেরায় ইন্টার মায়ামি। শুধু গোল করাই নয়, শটের জায়গা এবং বলের গতিপথ দেখে আবারও ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিলেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার বলা হয়। কর্নারের কাছাকাছি এমন কঠিন জায়গা থেকে সরাসরি ফ্রি কিকে গোল করা যে কতটা কঠিন, মেসির সেই গোলই তার প্রমাণ।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ালেও ক্লাব ফুটবলে এখনও একই রকম সক্রিয় মেসি। বয়স বাড়লেও তাঁর বাঁ পায়ের জাদু যে থামেনি, কলম্বাসের বিরুদ্ধে এই গোল তারই আরও একটি উদাহরণ।