'পুরনো তালিকায় আবার ভোট, জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারি' দাবি মমতার...


কলকাতা : SIR নিয়ে দুই কমিশনারের আপত্তি উড়িয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার ? জাতীয় নির্বাচন কমিশন নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। উঠে আসছে পশ্চিমবঙ্গ ও গোয়ার ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে দুই কমিশনারের আপত্তি সংক্রান্ত খবরও। এই ইস্যুতে এবার তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, "এই চেয়ারটা ওঁর জন্য নয়। এইজন্যই ২০২৪-এ বিজেপি জিতেছে। শুধু আপনার জন্য। আপনি দায়ী। ২০২৫ ও ২০২৬-এ যত ভোট হয়েছে আপনার জন্য জিতেছে। নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির জন্য আমাদের কেন ভুগতে হবে ? উনি আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছেন।" এর পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারির দাবি তোলেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, "যে যে রাজ্যে এসআইআরের নামে দখল করে, ইভিএম দখল করে, হাইজ্যাক করে জ্ঞানেশ কুমার... রাজ্যগুলিতে জিতেছে, সেই রাজ্যগুলিতে আবার নতুন করে পুরনো তালিকায় ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।"
এদিকে ওই সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট খারিজ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, SIR প্রক্রিয়ার বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর তিনজন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দু'জন আপত্তি জানিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন জানিয়েছে যে, একাধিক সদস্য-বিশিষ্ট কোনও সাংবিধানিক সংস্থায় ‘অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য’ বজায় রাখা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে হাইজ্যাক করার চেষ্টা এবং গণতন্ত্রকে বিপণ্ণতার মুখে ফেলার অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলি যখন নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানানো শুরু করেছে, ঠিক সেই আবহে কমিশনের তরফে এই বিবৃতি সামনে এল। সংশ্লিষ্ট বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশন তরফে জানানো হয়েছে, তাদের সমস্ত পদক্ষেপই আইন ও কমিশনের নির্দেশাবলী মেনেই নেওয়া হয়েছে।
এই আবহে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মমতা বলেন, "আমাদের প্রতীক কেড়ে নিয়েছেন, কারণ আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমাদের পার্টি দেখা করতে গেলে বলেন গেট লস্ট। এত ঔদ্ধত্য কেন ? মানুষকে কীভাবে সম্মান দিতে হয় জানেন না ? দেশের কাছে আপনি দায়বদ্ধ। গণতন্ত্রের কাছে আপনি দায়বদ্ধ। সংবিধানের কাছে আপনি দায়বদ্ধ। কিন্তু, আপনি শুধু বিজেপির ইগোকে সন্তুষ্ট করাতে দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন। এমন কলঙ্কজনক ঘটনা আমরা আমাদের জীবনে দেখিনি। ওঁর পদে থাকার কোনও নৈতিক অধিকার নেই।" 

Post a Comment

Previous Post Next Post