করোনা অতিমারির ধাক্কা নয়, তার আগেই বিশ্বজুড়ে পড়ুয়াদের পড়াশোনার ফলাফলে নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছিল। এমনই তথ্য উঠে এসেছে অর্গানাইজ়েশন ফর ইকোনমিক কো-অপরেশন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (ওইসিডি)-এর ‘প্রোগ্রাম ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা পিসা ২০২৫-এর রিপোর্টে। পড়া, গণিত এবং বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে পড়ুয়াদের দক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ওই রিপোর্টে।
‘ফিউচার-রেডি স্টুডেন্টস’ শীর্ষক রিপোর্টের প্রথম খণ্ডে ৯১টি দেশের ৭ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি পড়ুয়ার মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাঁদের বয়স ১৫ বছর বা তার কম। ২০২৫ সালের পিসা পরীক্ষায় মূলত বিজ্ঞানের উপর জোর দেওয়া হলেও পড়া, গণিত এবং ডিজিটাল দক্ষতাও যাচাই করা হয়।
ওইসিডি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সমীক্ষাভুক্ত দেশগুলিতে পড়ার গড় স্কোর ২৮ পয়েন্ট কমেছে। ওইসিডির হিসাব অনুযায়ী, এই পতন প্রায় দেড় বছরের শিক্ষাগত ঘাটতির সমান। একই সময়ে গণিতে গড় স্কোর কমেছে ২২ পয়েন্ট, যা এক বছরেরও বেশি সময়ের শেখার ঘাটতির সমতুল্য।
তবে এই অবনতির জন্য শুধুমাত্র কোভিড অতিমারিকে দায়ী করা যায় না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে রিপোর্ট। স্কুল বন্ধ থাকা এবং দীর্ঘদিন পড়াশোনায় ব্যাঘাত অবশ্যই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে। কিন্তু তার আগেও বেশ কিছু দেশে পড়ুয়াদের ফলাফলে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিনের শিক্ষাগত সমস্যাও এর নেপথ্যে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল। ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিজ্ঞানে ফলাফলে অবনতি দেখা গেলেও ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ওইসিডি-ভুক্ত দেশগুলিতে গড় স্কোরে বড় কোনও পরিবর্তন হয়নি।
ওইসিডির এই রিপোর্টে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সামনে পড়ুয়াদের মনোযোগ, ধারাবাহিক ভাবে শেখার আগ্রহ এবং মৌলিক দক্ষতার ঘাটতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অতিমারির ধাক্কার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি এই সমস্যাগুলির মোকাবিলাই এখন শিক্ষাক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।