নিজস্ব প্রতিবেদন:
রাজ্যের প্রাচীন ও প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর বহু পদ শূন্য। সেই পরিস্থিতিতে অপেক্ষাকৃত নতুন ও ছোট বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক বদলির সরকারি উদ্যোগ নিয়ে আরও জোরালো হচ্ছে বিতর্ক। শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, হুঁশিয়ারি দিয়ে নয়, সম্মান বজায় রেখে অনুরোধ করলে প্রয়োজনের সময়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়াতে যেতে পারেন। তবে স্থায়ী সমাধান হিসেবে শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের দাবিই সামনে রাখছেন তাঁরা।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে ‘দ্য ইউনিভার্সিটিজ় অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’ পাশ করে রাজ্য সরকার। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, শিক্ষার স্বার্থে রাজ্যের আটটি প্রাচীন ও বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-অধ্যাপক এবং কর্মী-আধিকারিকদের অপেক্ষাকৃত নতুন ও ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করা হবে। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর থেকেই শিক্ষক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি শিক্ষক সংগঠন। তাদের স্পষ্ট দাবি, বদলি নীতি প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় পুজোর আগেই বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনগুলি। তাঁদের বক্তব্য, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক প্রয়োজন হলে শূন্যপদে নিয়োগ করুক সরকার। কারণ যাদবপুর বা কলকাতার মতো পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর অভাবে সমস্যায় রয়েছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে অনুমোদিত শিক্ষকপদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৯০। তার মধ্যে তিনশোরও বেশি পদে কোনও শিক্ষক নেই। অর্থাৎ, অনুমোদিত পদের একটি বড় অংশই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। শুধু শিক্ষক নয়, শিক্ষাকর্মীর ক্ষেত্রেও একই ছবি। দেড় হাজারের বেশি অনুমোদিত শিক্ষাকর্মীর পদের মধ্যে প্রায় ৭০০ পদ খালি রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর।
শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং অফিসার মিলিয়ে যাদবপুরে অনুমোদিত পদের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। তার মধ্যে হাজারেরও বেশি পদে কোনও কর্মী নেই। ফলে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর ঘাটতি সামলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক কাজ চালানোই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রবীণ অধ্যাপকের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পড়াশোনার মান ধরে রাখতে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে তাঁদের সম্মানের সঙ্গে অনুরোধ করা যেতে পারে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরা সেখানে পড়াতে গেলে দুই পক্ষই উপকৃত হতে পারে। কিন্তু বাধ্যতামূলক বদলি করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
শিক্ষক মহলের যুক্তি, যাদবপুর ও কলকাতার মতো বিশ্ববিদ্যালয়েই যখন বিপুল সংখ্যক পদ খালি, তখন সেখান থেকে শিক্ষক সরিয়ে অন্যত্র পাঠালে সামগ্রিক ভাবে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি হবে না। বরং পুরনো ও নতুন—দুই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বদলি নীতির বদলে দ্রুত শূন্যপদে নিয়োগের দাবিতেই সরব হয়েছেন শিক্ষক সংগঠনগুলি।