হরমুজ প্রশ্নের ‘উত্তর’ বীরভূমে! বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে তৈরি হচ্ছে মেগা প্রকল্প


হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প শক্তির দিকে আরও জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসছে। সেই আবহেই বীরভূমের রাজনগরে তৈরি হচ্ছে রাজ্যের অন্যতম বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রায় ৪০-৪৫ একর জমির উপর গড়ে উঠছে এই মেগা প্রকল্প। ইতিমধ্যেই বসানো হয়েছে প্রায় ২১ হাজার সৌর প্যানেল।
প্রকল্পের পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। বাকি কাজও দ্রুত শেষ করে চলতি বছরের মধ্যেই গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সৈকত মণ্ডল জানিয়েছেন, এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমের অধীনে তৈরি হচ্ছে। সৌর প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ৩৩ কিলোভোল্ট ব্যবস্থার সাহায্যে গ্রিডে পাঠানো হবে। এরপর গ্রিডের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সাবস্টেশনের মাধ্যমে তা সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করা হবে। ফলে এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য অব্যবহৃত জমিকে কার্যকর ভাবে কাজে লাগানো এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎপাদন বাড়ানো। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে প্রচলিত জ্বালানির উপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। পুরোদমে প্রকল্পটি চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচেও কিছুটা সাশ্রয় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
আর এই প্রকল্পের গুরুত্ব আরও বাড়ছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তার প্রভাব পড়ছে ভারতেও। ফলে আগামী দিনে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের মতো বিকল্প শক্তির গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। সেই দিক থেকে বীরভূমের রাজনগরের এই প্রকল্পকে ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post