বুধবার সকালেই জোড়া সোনা ভারতের, তিরন্দাজিতে দেশকে সোনা দিল মহিলা এবং মিক্সড দল


বুধবার সকালটা ভারতের জন্য শুরু হল সোনার ঝলক দিয়ে। এশিয়ান গেমসে তিরন্দাজির কমপাউন্ড বিভাগে পর পর দু’টি সোনা জিতে নিল ভারত। প্রথমে মহিলাদের দলগত বিভাগে সোনা আসে। তার পর মিক্সড দলও ফাইনালে দুরন্ত লড়াই করে সোনা ছিনিয়ে নেয়। ফলে দিনের শুরুতেই ভারতের ঝুলিতে যোগ হল জোড়া সোনা। শুধু পদকই নয়, এই সাফল্যের সঙ্গে অলিম্পিক্সের টিকিটও নিশ্চিত করেছে ভারতীয় দল।
মিক্সড কমপাউন্ড বিভাগে ভারতের হয়ে সোনা জিতেছেন চিকিতা তানিপার্থি এবং সাহিল যাদব। ফাইনালে তাঁদের সামনে ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার জুটি জুংইয়ুন পার্ক এবং চোই ইউন গিউ। শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় দু’দলের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত ইস্পাতকঠিন মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ১৫৮-১৫৭ পয়েন্টে জয় ছিনিয়ে নেন ভারতীয় জুটি। মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে সোনা নিশ্চিত করেন তাঁরা।
ফাইনালের আগে সেমিফাইনালেও কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল ভারতকে। সেখানে তাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৫৬-১৫৫ পয়েন্টে জয় পেয়ে ফাইনালে ওঠেন চিকিতা ও সাহিল। অর্থাৎ সোনার লড়াইয়ে পর পর দু’টি ম্যাচেই এক পয়েন্টের ব্যবধানে জয় এসেছে ভারতের। চাপের মুহূর্তে নিজেদের ঠান্ডা রেখে লক্ষ্যভেদ করাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
এর কিছুক্ষণ আগেই মহিলাদের কমপাউন্ড দলগত বিভাগেও সোনা জিতে নেয় ভারত। ফাইনালে ভারতের জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম, চিকিতা তানিপার্থি এবং প্রীতিকা প্রদীপের সামনে ছিল চিনের শক্তিশালী দল। চিনের উনিয়ের, ইউ ওয়াং এবং ফাংগিয়াং ওয়েইয়ের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন ভারতীয় তিরন্দাজেরা। শেষ পর্যন্ত ২৩৮-২৩৪ পয়েন্টে চিনকে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন জ্যোতি, চিকিতা ও প্রীতিকা।
এই জয়ের ফলে আরও এক বার এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নিজেদের আধিপত্যের প্রমাণ দিল ভারতীয় মহিলা কমপাউন্ড দল। বিশেষ করে জ্যোতি সুরেখা ভেন্নামের জন্য এই সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। গত বারও সোনা জিতেছিলেন তিনি। এ বারও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন ভারতের তারকা তিরন্দাজ।
ম্যাচের পর নিজেদের সাফল্যের রহস্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রীতিকা জানান, পুরো দল একে অপরের পাশে থাকার চেষ্টা করেছিল। তাঁর কথায়, খারাপ শট হয়ে গেলেও কাউকে একা হয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। বরং সতীর্থরা একে অপরকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং পরের শটে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। বড় প্রতিযোগিতার চাপকে মাথায় না রেখে নিজেদের স্বাভাবিক খেলায় মন দেওয়াই ছিল তাঁদের লক্ষ্য।
প্রীতিকা বলেন, “আমরা একে অপরের পাশে ছিলাম। বার বার বলেছি, নিজেদের সেরাটা দিতেই হবে। যদি খারাপ শটে ৯ স্কোর হয় তা হলেও অপরের পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে হবে। মনোযোগ থাকবে খেলাতেই। আমরা জানতাম এটা বড় প্রতিযোগিতা। কিন্তু দিনের শেষে আমাদের পাশে সেই একই মানুষ, হাতে সেই একই তির-ধনুক থাকে। তাই সে দিকেই নজর রাখার চেষ্টা করেছিলাম।”
ভারতের এই সাফল্যের সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। ভারতীয় জুটি এমন স্কোর স্পর্শ করেছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বরেকর্ডের সমান। ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এই বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল। ফলে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ভারতের জোড়া সোনার সঙ্গে রেকর্ডের সমান উচ্চতায় পৌঁছনোর ঘটনাও যোগ হল।
সব মিলিয়ে বুধবার সকালের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিরন্দাজিতে ভারতের দাপট স্পষ্ট হয়ে গেল। মহিলাদের দলগত বিভাগ এবং মিক্সড দল—দুই বিভাগেই সোনা জিতে ভারতীয় তিরন্দাজেরা শুধু পদক-তালিকায় দেশের অবস্থান মজবুত করলেন না, নিজেদের ধারাবাহিক সাফল্যেরও প্রমাণ রাখলেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post