স্কুটার থেকে নামিয়ে নাবালিকাকে নির্যাতন, শরীর খামচে ধরে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, একজনকে এনকাউন্টার পুলিশের



পটনা: বিহারের জামুইয়ে নাবালিকাকে নির্যাতন এবং হেনস্থার ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। সেই ঘটনায় এবার একজনকে এনকাউন্টার পুলিশের। পালানোর চেষ্টা করায় অভিযুক্তের পায়ে গুলি করা হয়। সেই অবস্থায় গ্রেফতার করা হয় তাকে। ঘটনার যে ভিডিও সামনে এসেছিল, তাতে গেরুয়া পেট্টিতে মুখ ঢেকে মেয়েটিকে অত্যাচার করতে দেখা যায় একজনকে। এদিন যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারও মুখ ঢাকা ছিল গেরুয়া কাপড়ে। তাকে নন্দন যাদব নামে শনাক্ত করা গিয়েছে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয় নন্দনকে। সেনার কাঁধে ভর দিয়ে হাসপাতালে ঢোকে সে। সেখানে তাকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ উড়ে আসে। প্রশ্ন করা হয়, 'একটুও লজ্জা বোধ হল না? কেন করেছিলেন?' তবে কোনও জবাব দেয়নি নন্দন। নন্দনের পায়ে গুলি করে পুলিশ। সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাকে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যে লাল গামছা পরেছিল, সে-ই নন্দন।

এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ছ'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে তিন জনের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। অন্য তিন জন নাবালক। ADG আইনশৃঙ্খলা সুহিতা অনুপম জানিয়েছেন, পুলিশ দেখে পালানোর চেষ্টা করছিল নন্দন। সেই সময় ধস্তাধস্তি হয়। নন্দনের পা লক্ষ্য করে গুলি চালায় পুলিশ। অন্য দিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার জন্যও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই যুবকের নাম রামাশীষ চৌধরি। ওই ভাইরাল ভিডিও দেখেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশ।

গত শনিবার জামুইয়ে ওই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে। কোচিং সেন্টার থেকে বেরিয়েছিল দশম শ্রেণির পড়ুয়া এক কিশোর এবং এক কিশোরী। সূর্যাস্তের সময় পাহাড়ের গা ঘেঁষে ছবি তোলার ইচ্ছে হয়েছিল। সেই মতো স্কুটার ঘোরায় ওই কিশোর। পিছনের আসনে বসে পড়ে কিশোরী। সন্ধে ৬.৩০টা নাগাদ জামুই এবং লক্ষ্মীসরাইকে সংযোগকারী রাস্তায় পৌঁছলে হঠাৎ আটজনের একটি দল চড়াও হয় তাদের উপর। 

গোটা ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছিল, যাতে দেখা যায়, স্কুটার থামিয়ে পথ আটকানো হয়েছে ওই কিশোর-কিশোরীর। হাতজোড় করে ছেড়ে দেওয়ার আর্জি জানাচ্ছিল তারা। ক্ষমা চাইছিল। কাতর আবেদন জানিয়ে বলছিল, ‘আর কখনও এদিকে আসব না।  কিন্তু চার পাশ থেকে অশালীন ভাবে স্পর্শ করা হয় মেয়েটিকে। ছেলেটিকে রীতিমতো মারধর করতেও দেখা যায়। দু’জনকে ধরে বিয়ে দেওয়ার কথা বলতেও শোনা যায় কয়েকজনকে। 

সেই সব চলাকালীনই হঠাৎই সামনে এগিয়ে আসে গেরুয়া কাপড়ে মুখ ঢাকা একজন। মেয়েটিকে ছেলেটির কাছ থেকে কার্যত ছিনিয়ে নেয় সে। দুই পায়ের মাঝে হাত ঢুকিয়ে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে দৌড়নোর চেষ্টা করে। এমন পরিস্থিতিতে নাবালক কিশোর মরিয়া হয়ে ছুটতে থাকে। বান্ধবীকে ওই ছাড়ানোর চেষ্টা করে। এর পরও হেনস্থা থামেনি। ছেলেটি বার বার বোঝানোর চেষ্টা করে যে, তারা একসঙ্গে পড়াশোনা করে। পরিবারের লোকজনও তাদের বন্ধুত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। কিন্তু তাতে সপাটে গালে চড় মারা হয় তাকে। বাড়িতে ফোন করে প্রমাণ দিতে বলা হয়। 

সেই ভিডিও দেখে তোলপাড় শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। কেন দু'দিন পর তল্লাশি শুরু হল, ওঠে প্রশ্ন। সেই অবস্থায় বিহার সরকারের মন্ত্রী বিতর্কিত মন্তব্য করেন। গোটা ঘটনাকে 'বিচ্ছিন্ন ঘটনা' বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই আবহেই গুলিবিদ্ধ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

Post a Comment

Previous Post Next Post