ডিএনএ পরীক্ষা করেও শিপ্রার খোঁজ নেই

চন্দননগর: মনের মধ্যে আশঙ্কার পাহাড় জমে থাকলেও ক্ষীণ আশা নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নেপালে রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। ভেবেছিলেন, হয়তো অলৌকিক কিছু ঘটবে। কিন্তু সেটা হলো না। ডিএনএ পরীক্ষা করেও মায়ের সন্ধান না পেয়ে শূণ্য হাতেই ফিরতে হলো নেপালের হড়পা বানে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া চন্দননগর হরিদ্রাডাঙার বাসিন্দা প্রাক্তন স্কুল শিক্ষিকা শিপ্রা রায় পাটারির দুই ছেলেকে। সেই খবর পাওয়ার পর আবারও হতাশা নেমে এসেছে গোটা পরিবারে।
গত ২১ অগস্ট কলকাতার একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে বেড়াতে গিয়েছিলেন শিপ্রা রায় পাটারি। আজ, রবিবার তাঁর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। নেপাল থেকে ফিরেই আমেরিকায় ছেলের কাছে যাওয়ার কথা ছিল। তার বদলে মায়ের খোঁজে আমেরিকা থেকে তড়িঘড়ি ফিরে আসতে নিখোঁজ শিপ্রার দুই ছেলে অনীক ও নিলয়কে। নেপালে গিয়েও অবশ্য খুব একটা লাভ হয়নি। তবে সেখানকার বিধ্বংসী চেহারা নিজের চোখে দেখে এসেছেন তাঁরা। দুই ভাই জানিয়েছেন, নেপালের যে সব এলাকা দিয়ে হড়পা বান নেমেছে সেখানকার অবস্থা ভয়াবহ। সেই ধ্বংসলীলা দেখার পরে তাঁরা মানসিক ভাবে এখন বিপর্যস্ত। এ দিন দুই ভায়ের কেউ–ই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না।

কাকা বাবলু পাটারি জানান, তাঁর বড় দাদা রবীন্দ্রনাথ এবং বৌদি শিপ্রা, দু’জনেই এক সময় স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। দাদা–বৌদি দু’জনেই কৈলাস সরোবর ভ্রমণে যাবেন বলে ঠিক করেছিলেন। কিন্তু বয়সের কারণে দাদা বাদ পড়ে যান। সেটা শুনে বৌদি ট্যুর বাতিল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দাদাই জোর করে বৌদিকে পাঠান। তিনি এ দিন বলেন, ‘হড়পা বানে নেপালের বিপর্যয়ের ছবি দেখার পরে রীতিমতো ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, বৌদিরা যাতে অক্ষত ভাবে বাড়ি ফিরে আসেন। অনেক আশা নিয়েই ভাইপোরা মায়ের খোঁজখবর করতে তড়িঘড়ি করে নেপালে ছুটে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতি দেখে এসে ভাইপোরা বলল, কোনও আশা নেই।’

Post a Comment

Previous Post Next Post