আরজি কর কাণ্ডে অবশেষে গ্রেপ্তার সোমনাথ, বেঙ্গালুরু থেকে ধরল পুলিশ



আরজি করের ছাত্রীর দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের মামলায় এ বার বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার পানিহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে। ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি করের চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। অভিযোগ উঠেছিল, তৎকালীন শাসকদলের মদতে পড়ুয়ার দাহ-পর্ব তদন্তের আওতায়ই আসেনি। অভিযোগ ওঠে, প্রমাণ লোপাটের জন্য তড়িঘড়ি ওই পড়ুয়ার দেহ দাহ করে ফেলা হয়েছিল সে দিন। আর পুরোটাই ঘটেছিল পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পানিহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলার তথা প্রতিবেশী কাকু (যিনি পরে তৃণমূলে যোগ দেন) সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে।

এর আগে আর কারা গ্রেপ্তার হয়েছে?

রাজ্যে পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে নতুন করে এই ফাইল খোলা হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আগেই নির্মল ঘোষ ওরফে নান্টু ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বার গ্রেপ্তার হলেন সোমনাথ দেও।

বেঙ্গালুরুর একটি অতিথিশালা থেকে সোমনাথকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবারই বেঙ্গালুরুর সিটি সিভিল কোর্টে তুলে, ট্রানজিট রিমান্ডে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হবে তাঁকে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই পলাতক ছিলেন সোমনাথ। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন।

গত ৯ অগস্ট পানিহাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘আমি তাঁর মায়ের একটি চিঠি পেয়েছি। তিনি নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পুনর্তদন্তের জন্য বলেছেন। কোর্ট মনিটরিংয়ে সিবিআই তদন্ত চলছে। তাই আমি ১৯৫২ সালের স্পেশাল কমিশন অ্যাক্টের আওতায় তাঁর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্তদন্তের ঘোষণা করে গেলাম। একটি জায়গায় সিবিআই ইনভেস্টিগেশন করার স্কোপ নেই। রাজ্য পুলিশের ঢোকার সুযোগ আছে সেখানে, তা হলো ক্রিমেশন ঘাট। নাটাগড় কদমতলা সিআর পার্ক আন্ডার ঘোলা পিএস। অবাক হবেন যে, ক্রিমেশনের লিস্টে তিন নম্বরে ছিল, এক নম্বরে করেছে সে দিন। ক্রিমেশন কস্ট বাড়ির লোক দেয়নি। সিগনেচার করতে হয় বাড়ির লোক বা এনি ক্লোজ় রিলেটিভকে। নো সিগনেচার। এখানে নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এই তিন জন এই কাণ্ড করেছেন। আমি ব্যারাকপুরের সিপিকে বলব, প্লিজ স্টার্ট নিউ কেস।’

Post a Comment

Previous Post Next Post