শুক্রবার ভারতীয় সময় রাত ২টা ৫৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে রওনা দেয় রকেটটি। এটি GSLV সিরিজের ১৯তম উড়ান। সফল উৎক্ষেপণের পর ISRO প্রধান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে GSLV-F17 সফল ভাবে এবং নিখুঁত ভাবে Advanced Earth Observation Satellite-05 বা EOS-05-কে নির্ধারিত এবং প্রয়োজনীয় কক্ষপথে স্থাপন করেছে।’ তাঁর কথায়, উপগ্রহটি কক্ষপথে পৌঁছনোর পরে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে।
ISRO-কে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর
GSLV-F17/EOS-05 মিশনের সাফল্যের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ISRO-র বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের অভিনন্দন জানান। তিনি লিখেছেন, ‘ISRO-র আরও একটি অসামান্য সাফল্য এবং আমাদের দেশের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথ থেকে ভারতের সর্বপ্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট EOS-05 বহনকারী GSLV-F17-এর সফল উৎক্ষেপণটি ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং ক্রমবর্ধমান সক্ষমতারই প্রতিফলন।’ প্রধানমন্ত্রী ISRO-র গোটা দলকে এই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, ‘দেশের মহাকাশ কর্মসূচি যে দ্রুত এগিয়ে চলেছে, এই মিশন তারই প্রতিফলন।’
কী এই EOS-05?
EOS-05 একটি অত্যাধুনিক Earth Observation Satellite। ISRO-র তথ্য অনুযায়ী, এটি ভারতের প্রথম এমন ইমেজিং উপগ্রহ, যা জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথ থেকে পৃথিবীর পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। GSLV-F17 উপগ্রহটিকে প্রথমে Sub-GTO-তে স্থাপন করেছে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কক্ষপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে EOS-05-কে নির্দিষ্ট অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।
জিওসিনক্রোনাস অরবিট-এ প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতা থেকে উপগ্রহটি পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর নজর রাখতে পারবে। এর ফলে সাধারণ লো আর্থ অরবিট উপগ্রহের তুলনায় কোনও নির্দিষ্ট এলাকার উপর আরও ধারাবাহিক ভাবে পর্যবেক্ষণ চালানো সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন বা পাকিস্তানের মতো দেশের উপর স্ট্র্যাটেজিক নজরদারিতে সহায়তা করবে এটি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মিশন?
EOS-05-এর সাফল্য ভারতের Earth Observation বা পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। কক্ষপথ থেকে নিয়মিত ছবি ও পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষি, পরিবেশ এবং বিভিন্ন কৌশলগত প্রয়োজনে তথ্য সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর দীর্ঘ সময় ধরে নজর রাখার ক্ষেত্রে Geosynchronous imaging satellite-এর সুবিধা অনেক বেশি। ঘূর্ণিঝড়, প্রবল আবহাওয়া পরিবর্তন বা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য পাওয়া গেলে আগাম সতর্কতা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তা কাজে লাগতে পারে।