‘বাংলা মোদের গর্ব’ প্রকল্পেও দুর্নীতি! আরও বিপাকে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল



ফের বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। একটি প্রকল্পের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী থাকাকালীন রাজ্য সরকারের বিপুল টাকার টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ এবং পরিজনদের বিরুদ্ধে। এবার এই ব্যাপারে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করল রাজ্যের দুর্নীতি দমন কমিশন। এই ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনের পুলিশকর্তা কে জয়রামনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে।” যদিও ইন্দ্রনীল সেনকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে পুজোর পাস দুর্নীতিতে ইন্দ্রনীলকে তলব করে জেরা করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এবার রাজ্যের পক্ষেও নতুন দুর্নীতির তদন্ত শুরু হল প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
‘বাংলা মোদের গর্ব’ নামে একটি প্রকল্প চালু করে রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলায় বাংলার লোক সংস্কৃতি, হস্তশিল্প, ইতিহাস তুলে ধরা ও স্থানীয় শিল্পীদের সুযোগ দেওয়া হয়। সেই উপলক্ষ্যে প্রত্যেকটি জেলায় মেলার আয়োজন করা হত। মেলায় স্থানীয় হস্তশিল্পের স্টল থাকত। আলাদা প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হত। কমিশনের কাছে অভিযোগ আসে যে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই মেলা, প্রদর্শনীর যাবতীয় টেন্ডার দেওয়া হয় কয়েকটি বিশেষ সংস্থাকে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তৎকালীন কর্তা ওই টেন্ডার দেন। অভিযোগ আসে যে, দপ্তরের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন নিজের প্রভাব খাটিয়ে ইচ্ছামতো সংস্থাগুলিকে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাঁর নির্দেশেই টেন্ডার যে সংস্থাগুলি পায়, সেগুলির মালিক আসলে ইন্দ্রনীল সেনের পরিজন ও আত্মীয়রা। মেলার স্টল থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউল, ভাটিয়ালি সঙ্গীত, আদিবাসী নাচের জন্য শিল্পীদের নিয়ে আসা, সব কিছুর জন্যই টেন্ডার পায় ওই সংস্থাগুলি। অন্য সংস্থা টেন্ডারের জন্য আবেদন করলেও অন্য কাউকে টেন্ডার দেওয়া হয়নি। টানা দু’বছর ধরে ২৩টি জেলায় এই মেলা ও অনুষ্ঠান বাবদ কয়েকশো কোটি টাকা তোলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
কমিশন সূত্রের খবর, এই ব্যাপারে অভিযোগ আসার পরই কমিশনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। যে সংস্থাগুলি টেন্ডার পেয়েছিল, তার মালিকদের সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের কী সম্পর্ক, সেই তথ্য কমিশনার আধিকারিকরা জানার চেষ্টা করছেন। একেকটি মেলা বাবদ কত টাকার টেন্ডার নেওয়া হয়েছিল, আসলে সংস্থাগুলি কত টাকা খরচ করেছিল ও সংস্থাগুলির লভ্যাংশ কত টাকা, তার হিসাব শুরু করেছেন আধিকারিকরা। প্রত্যেকটি মেলার স্টলে স্থানীয় শিল্পীরা যে সামগ্রীগুলি বিক্রি করতেন, তা থেকেও টেন্ডার নেওয়া সংস্থা তথা ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয় ও পরিজনরা কমিশন নিতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই তথ্যগুলিও কমিশনের পক্ষ থেকে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের খাতিরে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ, পরিজনদের কমিশন জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। এর পর রিপোর্ট তৈরি করে তা সরকারকে জমা দেবে কমিশন। ফলে একদিকে যখন পুজো সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জল ঘোলা শুরু হয়েছে, তার মধ্যে এই ঘটনায় নতুন করে বিপাকে পড়লেন গায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post