নবমীতে বিষাদের সুর, ভোরে বাঘাযতীন বাজারে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল বহু দোকান



পুজোয় বিপর্যয় যেন থামছেই না। এবার নবমীর ভোরে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড বাঘাযতীন বাজারে। মঙ্গলবারের সেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল অন্তত ৪৫টি দোকান। দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজে নামে। তবে সকাল ৮টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পুজোর মরশুমে এতগুলি দোকান ভস্মীভূত হওয়ায় বড়সড় ক্ষতি হয়েছে ব্যবসায়ীদের। দোকানে থাকা সমস্ত জিনিসপত্র পুড়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁরা। এত বড় ক্ষতিতে রাজ্য সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের কাতর আবেদন, কিছু আর্থিক সাহায্য করা হোক যাতে ফের তাঁরা ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।কীভাবে এত বড় আগুন লাগল, তা এখন অস্পষ্ট। খতিয়ে দেখছে দমকল।
মঙ্গলবার ভোর। ঘড়ির কাঁটা সাড়ে ৩টে পেরিয়েছে। এমন সময়ে বাঘাযতীন বাজারে আগুন লেগেছে বলে খবর পাওয়া যায়। বাঘাযতীনের এই বাজারটি বেশ পুরনো ও বড়। ছোট-বড় বহু বিক্রেতা এখানে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করেন। সেই বাজারেই আচমকা অগ্নিকাণ্ড। খবর পেয়ে প্রথমে দমকলের ১টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখার গ্রাসে চলে গিয়েছে অনেক দোকান। এর মধ্যে বেশিরভাগই দশকর্মা দোকান বলে জানা যাচ্ছে। এক মহিলা বিক্রেতা জানাচ্ছেন, দুর্গাপুজো মিটলেই লক্ষ্মীপুজো। সেই জন্য তাঁর দোকান লক্ষ্মীঠাকুরের মূর্তি রাখা ছিল বিক্রির জন্য। কিন্তু সব মূর্তিই পুড়ে গিয়েছে। সেইসঙ্গে পুজোর যাবতীয় সরঞ্জামও ভস্মীভূত।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার খবর পেয়ে দমকল দেরিতে পৌঁছয়। প্রথমে একটি ইঞ্জিন এসে কাজ শুরু করে। পরে ধীরে ধীরে ইঞ্জিনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫টি। কিন্তু সবটাই হয়েছে দেরিতে। ততক্ষণে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। পুজোর আনন্দের মাঝে নিজেদের দোকানের এই অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকেই। সকলের একটাই বক্তব্য। উৎসবের মরশুমে বাড়তি লাভের আশায় বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন দোকানে। কিন্তু সর্বগ্রাসী আগুন সব কেড়ে নিল। রাজ্য সরকারের কাছে তাঁদের আবেদন, আর্থিক সাহায্য করা হোক যাতে আবার দোকান তৈরি করে তাঁরা ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কারণ, এটাই তাঁদের উপার্জনের একমাত্র রাস্তা।

Post a Comment

Previous Post Next Post