স্ত্রী এবং বাবাকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। এক তান্ত্রিকের কথায় ওই যুবক তার স্ত্রী এবং বাবাকে খুন করেছেন বলে অভিযোগ। বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। এই ঘটনা নরবলি কী না তা তদন্তের পরেই জানা যাবে বলে জানিয়েছেন বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতদের নাম রুম্পা চৌধুরী (৩৯) এবং রাজেন্দ্র চৌধুরী (৬০)। বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা থানার সীমানা থেকে, সোমবার রাতে উদ্ধার হয় তাঁদের দেহ। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত মঙ্গল চৌধুরী। ধৃত যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বাবার সঙ্গে স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলে সন্দেহ করতেন মঙ্গল। ওই সম্পর্ক বন্ধ করার জন্য এক তান্ত্রিকের কাছে যান তিনি। তান্ত্রিকের পরামর্শ মেনে স্ত্রীকে নিয়ে মন্দিরে পুজো-অর্চনা করতেন মঙ্গল। তার পরেও দু'জনের অবৈধ সম্পর্ক বন্ধ হয়নি। শেষে তান্ত্রিকের পরামর্শে স্ত্রী ও বাবাকে হত্যা করেন মঙ্গল।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাতে দামোদর নদের চরে অবস্থিত লাল বাবা মানাচর এলাকা থেকে উদ্ধার হয় রুম্পা এবং রাজেন্দ্র চৌধুরীর দেহ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ মনে করছে, তান্ত্রিকের প্ররোচনায় অন্ধবিশ্বাসের বশে এই মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ, তান্ত্রিকের কথামতো প্রথমে নিজের আঙুল কেটে স্ত্রীর মুণ্ডচ্ছেদ করেন মঙ্গল। খুনের পরে সেই কাটা মুণ্ড দেওয়া হয় মন্দিরে রেখে। পরে বাবার গলা কেটে খুন করেন তিনি।