# দশমীর রাতে বিজেপি কর্মীকে নৃশংস খুনের অভিযোগ, পুলিশের জালে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা
মালদহে দশমীর রাতে বিজেপি কর্মী সমীর ঘোষকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় এক কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা রঞ্জন ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় ইংরেজবাজার থানার অন্তর্গত রামকেলি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে যখন এলাকার মানুষ ব্যস্ত ছিলেন, সেই সময় সমীর ঘোষের বাড়িতে ঢুকে তাঁর উপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার পাশাপাশি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোরও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পরেই আটজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। তদন্তের মধ্যেই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে রঞ্জন ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
সূত্রের খবর, গ্রেপ্তার হওয়া রঞ্জন ঘোষ বর্তমানে মালদহ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। কী কারণে এই হামলা, এর পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি রাজনৈতিক বিবাদ কাজ করেছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং গুলি চালানোর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়েরও প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মৃত সমীর ঘোষের ভাই বিবেক ঘোষ দাবি করেছেন, তাঁর দাদা দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তৃণমূলের কর্মী এবং এলাকার তৃণমূলকর্মীদের সঙ্গে সমীরের দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। সেই পুরনো বিবাদের জেরেই দশমীর রাতে তাঁর দাদার উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি বিবেকের। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় রামকেলি এলাকায় প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে যখন সাধারণ মানুষ ব্যস্ত ছিলেন, তখনই সমীর ঘোষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে কয়েকজন। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই তাঁর উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায় বলে দাবি করা হয়েছে। আচমকা এই হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালায়।
দশমীর মতো উৎসবের রাতে এমন হিংসাত্মক ঘটনার অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, নিহতের পরিবার এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক বিবাদের অভিযোগ তোলায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
এখন তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন, ঠিক কী কারণে সমীর ঘোষের উপর এই হামলা চালানো হয়েছিল এবং ঘটনায় আরও কারা জড়িত। অভিযোগে নাম থাকা আটজনের প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না, হামলার পিছনে রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না এবং গুলি চালানোর অভিযোগের সত্যতা কতটা—এই সমস্ত বিষয় তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। আপাতত ধৃত রঞ্জন ঘোষের চিকিৎসা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় পুলিশ। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে আদালতে পেশ করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার আরও তথ্য সামনে আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।