' ফ্র্যাকচারের কোনও প্রমাণ নেই ' , মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাসপাতালের রিপোর্ট দেখিয়ে বড় দাবি মুখ্যমন্ত্রীর


২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে ভাঙা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার  দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দেখালেন এমআর বাঙুর হাসপাতালের একটি রিপোর্ট । বললেন, ' হাসপাতালের রিপোর্টে ফ্র্যাকচারের কোনও প্রমাণ নেই ' । 
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ২০২১ সালের ১১ মার্চের ওই রিপোর্ট দেখিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করলেন, সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনও ফ্র্যাকচার বা ডিসলোকেশন হয়নি। তিনি হাসপাতালের রিপোর্ট দেখিয়ে বলেন, তাতে  এমন ফ্র্যাকচার বা ডিসলোকেশনের কোনও কথা বলা হয়নি। 
শনিবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন । সেদিন "পুরো নন্দীগ্রামকে অপমান করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী" । এরপরই শুভেন্দু অধিকারী  বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেস-এর রিপোর্ট দেখিয়ে বলেন, সেখানে ফ্র্যাকচারের কোনও প্রমাণ নেই। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "এটা নিয়ে CID তদন্ত করছে, ভোটের আচরণবিধি উঠে গেলে বিস্তারিত বলব"। 

শুক্রবারও ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের পায়ের আঘাত নিয়ে  শুক্রবার মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন,তিনি ব্য়ক্তি আক্রমণ করেন না। মুখ্য়মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি SSKM হাসপাতালে গিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এক্স রে প্লেট তো রোগী পেয়ে যায়, ডাক্তারের কাছে থাকে না। কিন্তু এক্স রে রিপোর্ট থাকে। তাঁর কাছে সেই রিপোর্ট আছে । তাতে মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায়ের রিপোর্টে নাকি লেখা ছিল 'নো ফ্র্য়াকচার'। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,  "৯ অক্টোবরের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে"

তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ঘটনাটির তদন্ত করছে সিআইডি। এখন নির্বাচনী বিধি কার্যকর থাকায় এ বিষয়ে তিনি আপাতত আর কোনও পদক্ষেপের কথা বলছেন না। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, নির্বাচনী বিধি উঠে যাওয়ার পর এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।  

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে প্রচারের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মনোনয়ন পেশের দিন পায়ে আঘাত পান মমতা । এরপর পায়ে প্লাস্টার নিয়ে হুইল চেয়ারে বসে জেলায় জেলায় ঘুরতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এখন আবার  মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হতে পারে।  

Post a Comment

Previous Post Next Post