চোরবাগানের মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায়, অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে পুজোর আনন্দ। উৎসবের মাঝে যেন দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে মৃত্যু-ভার। এরইমধ্য়ে এবার, চোরবাগানকাণ্ডের তদন্তভার নিল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে, যে এগজিট গেটের কাছে দুর্ঘটনা, সেখানে কোনও CCTV ফুটেজ মেলেনি বলে দাবি করল কলকাতা পুলিশ।কলকাতা পুলিশ অ্য়াডিশনাল CP (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল বলেন, এগজিট গেটে কোনও সিসিটিভি ফুটেজ মেলেনি। 30টা অ্য়াঙ্গলে CCTV ফুটেজ মিলেছে। ১৩টা যাচাই করে দিচ্ছে।
পুজোর দিনে, চোরবাগানের মণ্ডপে, পদপিষ্ট হয়ে মৃত্য়ু হয়েছে ১৯ জনের... তাদের মধ্য়ে রয়েছে ৭ বছরের শিশুও। আহত হয়েছেন অনেকে। তাঁরা এবার একে একে ছাড়া পাচ্ছেন হাসপাতাল থেকে।অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে সোমবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ১০ জনকে। এখনও সেখানে ভর্তি রয়েছেন ৪ জন।মঙ্গলবার ছেড়ে দেওয়া হবে ২ জনকে। বাকি ২ জনের ছাড়া পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, যে দুজন শেষ অব্দি হয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে একজন অন্য রাজ্যের এবং দ্বিতীয় একজন নাবালিকা তার সংক্রমণের সমস্যা হয়েছে তাই থেকে যাচ্ছে।
এদিকে চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রবিবার একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্য ভবন। কলকাতার পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজের টিম এবার থাকবে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে থাকবে এনআরএস-এর চিকিৎসক দল। টালার পুজো মণ্ডপে থাকবে আর জি কর হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কলেজ স্কোয়ারে থাকবেন মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা।একডালিয়া এভারগ্রিনে থাকবে ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের টিম।
SSKM-এর চিকিৎসকেরা থাকবেন চেতলা অগ্রণীতে। বিকেল ৫টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত এই মণ্ডপগুলিতে থাকবে মেডিক্যাল টিম। টিমে মেডিক্যাল অফিসারের পাশাপাশি থাকবেন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদমর্যাদার চিকিৎসকরাও। চোরবাগানে বিপর্যয়ের পর আহতদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজে।
সেখানকার জুনিয়র চিকিৎসকরা শনিবার রাতেই জানান, জখম অনেককেই কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজে ভর্তি করার পরই, অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার তোড়জোড় শুরু করে দেওয়া হয়। কেন তাঁদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠাতে হবে? এই প্রশ্নের আবহেই পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকরা।কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ জুনিয়র চিকিৎসক বলেন, কারা কারা আপনাদের রোগীদের অ্য়াপোলোতে চিকিৎসা করাতে চান। এই ধরনের কথা একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, যে ঘটনা যখন ঘটেছে তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি মেডিক্যাল কলেজে গেছিলাম এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেখানে হচ্ছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী তরফ থেকে সকলকে বলা হয়েছিল আহতরা যেখানে চিকিৎসা করাতে চাইবেন সেখানে করানো হবে। তাই প্রত্যেককে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এছাড়া পরিকাঠামগত কোন ত্রুটি থাকলে চিকিৎসকদের তরফ থেকে যা যা বক্তব্য অভিযোগ আছে সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে লাগাতার প্রশাসনকে নিশানা করছে বিরোধীরা। মমতা তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, সিটি অফ জোয় এখন সিটি অফ জামে পরিণত হয়েছে। ফলে নগরপাল অজয় নন্দা দুর্গাপুজোর ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ফলে তাকে অবিলম্বে নগরপাল পদ থেকে সরানো হোক।' চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন মমতাপন্থী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
চোরবাগান-বিপর্যয়ে স্ফুলিঙ্গের কাজ করেছে মাইকে এই প্রচার।কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি পুলিশ জানিয়েছে, কোথাও কোনও পুজো বন্ধ হয়নি। এনিয়ে যারা গুজব রটাচ্ছে, তাদের সতর্ক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে কোচবিহার থেকে ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও যোগ রয়েছে কিনা, খতিয়ে দেখছে STF