চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত মা-ছেলে, বর্ধমানের বাড়ি গিয়ে পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী



বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব এবছর পরিণত হয়েছে উৎ-শবে! কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে বিশৃঙ্খলার জেরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ গিয়েছে ১৯ জনের। কলকাতা তো বটেই, দূরদূরান্তের জেলা থেকে কলকাতার এই বিখ্যাত পুজো দেখতে এসে আর বাড়ি ফিরতে পারেননি তাঁরা। এসব পরিবারগুলিতে উৎসব শুরু হতে না হতেই নিভে গিয়েছে আলো। এখন থমথমে গোটা বাড়ি। স্বজন হারানোর এই তীব্র আকস্মিক বেদনা সামলাতে তাঁদের পাশে কার্যত অভিভাবকের মতো দাঁড়ালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার, নবমীর দিন জেলায় জেলায় গিয়ে প্রত্যেক পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। এই চরম বিপর্যয়ের মাঝে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দিলেন আর্থিক সাহায্য। বললেন, হাই কোর্টের বিচারপতির অধীনে তদন্ত কমিটি গড়ে দ্রুত তদন্ত শুরু ও শেষ হবে।
শনিবার অর্থাৎ প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝেই কলকাতার বুকে নেমে আসে বিষাদ। বৃষ্টি আর ভিড়ের চাপে চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপের গেট ভেঙে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১৯ জনের। পুজোর কলকাতায় এত বড় বিপর্যয়ের নজির সাম্প্রতিক অতীতে নেই। উৎসবের রেশ কেটে যায়। মৃতদের শনাক্তকরণ শুরু হলে দেখা যায়, তালিকায় বেশিরভাগ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। বর্ধমানের মাধবডিহি থেকে অষ্টম শ্রেণির ছেলে সন্দীপকে নিয়ে চোরবাগানের ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন মা টগর বেজ। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। দুর্ঘটনার পর থেকে সর্বদা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঠিক করেছিলেন, হতাহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নিজেই যাবেন তাঁদের বাড়ি।

Post a Comment

Previous Post Next Post