রেজিনগর হবে ‘মডেল’ কেন্দ্র, ঢালাও প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর, হুমায়ুনকে নিশানা করে কী বললেন শুভেন্দু?



ফলতার ফল চমকে দিয়েছিল। রেজিনগরেও কি তার পুনরাবৃত্তি? সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্র রেজিনগরে নির্বাচনী প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিলেন, বিজেপি প্রার্থী জিতলে এই বিধানসভা এলাকাকেও ‘মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বৃহস্পতিবার রেজিনগরের শক্তিপুরে একটি প্রচার সভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সিপিএম-তৃণমূলের পাশাপাশি এ দিন শুভেন্দুর নিশানায় ছিল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরও।

একদিকে শিল্পায়ন, অন্য দিকে এলাকার রাস্তাঘাট-সেতুর উন্নয়ন— রেজিনগরকেও যে ‘মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে সে ব্যাপারে একাধিক আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেজিনগরে শিল্পতালুক গড়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরির কথা বলেন। তাঁর দাবি, শিল্পতালুকে ইতিমধ্যেই চারটি প্রস্তাব এসেছে এবং দেড় বছরের মধ্যে কারখানা চালুর লক্ষ্যে কাজ হবে। দুগ্ধচাষিদের জন্য আমূলের দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র, রাস্তা সংস্কার, ২০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণ ও পরিকাঠামো উন্নত করা, স্ক্যান ও এমআরআই পরিষেবা চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

রেজিনগরের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। আসনটি হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ছেড়ে নওদা ধরে রাখায় শূন্য হয়েছে। ওই বিধানসভা উপনির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ রয়েছে। শুভেন্দু এ দিন জনসভায় হাজির দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেন, 'আমাকে আর আসার প্রয়োজন নেই তো!' বিশাল ভিড় থেকে হাত নাড়িয়ে 'না' বলার পরে মুখ্যমন্ত্রী ফের জানতে চান, 'আগামী ৯ অক্টোবর রেজিনগরে আমাকে দেখতে চান! তা হলে আমি হেলিকপ্টার ভাড়া করে চলে আসব। জয়ের সার্টিফিকেট আমি শাখারভ (বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার)-কে নিতে দেবো না। আমি ওই সার্টিফিকেট নেব।'

উপনির্বাচনের মুখে শক্তিপুরের প্রতাপ সঙ্ঘের মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল এবং হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, 'রাজনীতির ময়দানে লড়াই হয়, তর্ক হবে, আলোচনা-সমালোচনা হবে। একজন জিতবে, অন্যরা হারবে। কিন্তু মানুষের মৃত্যু কামনা করার মতো ভাষা আমরা ব্যবহার করি না।' তাঁর দাবি, হুমায়ুনের মন্তব্যের বিচার রেজিনগরের ‘গণদেবতা’র উপরেই ছেড়ে গেলেন তিনি। এর আগে হুমায়ুন কবীর মুখ্যমন্ত্রীর ‘তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার’ জন্য প্রার্থনা করার কথা বলেছিলেন বলে প্রকাশ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

Post a Comment

Previous Post Next Post