# ‘আমেরিকায় বাড়ছে হিন্দুবিদ্বেষ, শিকাগোর মন্দিরে গণহত্যার ছক উদ্বেগের’, কড়া প্রতিক্রিয়া দিল্লির
আমেরিকায় হিন্দুদের ধর্মীয় উপাসনাস্থলকে কেন্দ্র করে হিংসার আশঙ্কা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। শিকাগো সংলগ্ন ইলিনয়ের অরোরা এলাকায় একটি হিন্দু মন্দিরে গণহত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৯ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, কথিত ষড়যন্ত্রের মধ্যে হিন্দু-বিরোধী এবং বর্ণবিদ্বেষী মনোভাবের যে ইঙ্গিত মিলেছে, তা বিশেষ ভাবে উদ্বেগজনক। ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে হিংসার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।
শিকাগোর এই ঘটনাকে ঘিরে ভারতের প্রতিক্রিয়া সামনে আসার পর আমেরিকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় উপাসনাস্থলগুলির সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ থেকে হিংসার পরিকল্পনা করা হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। যদিও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন, তবে ঘটনাটিকে হালকা ভাবে দেখছে না ভারত।
**হিন্দু মন্দিরে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ**
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার ইলিনয় প্রদেশের অরোরা এলাকায় একটি হিন্দু মন্দিরকে কেন্দ্র করে গণহত্যার কথিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনায় ১৯ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কারণেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অরোরা শিকাগো মহানগর এলাকার অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন এবং ধর্মীয় উপাসনার জন্য মন্দিরে যাতায়াত করেন। ফলে কোনও মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ সামনে এলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট উপাসনাস্থলের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করে।
তবে অভিযুক্ত ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা করেছিল, ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না এবং সম্ভাব্য হামলার জন্য কোনও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
**কী বলল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক?**
এই ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি শিকাগো সংলগ্ন অরোরা এলাকায় একটি হিন্দু মন্দিরে গণহত্যার কথিত ষড়যন্ত্রের খবর নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য, “ইলিনয়ের অরোরা এলাকায় একটি হিন্দু মন্দিরে গণহত্যা চালানোর একটি কথিত ষড়যন্ত্রের সংবাদে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই ষড়যন্ত্রের হিন্দু-বিরোধী ও বর্ণবিদ্বেষী প্রকৃতি, যার মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের প্রতি সহিংসতার প্রবণতা, বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।”
বিদেশ মন্ত্রকের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ঘটনাটিকে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা হিসেবে দেখছে না নয়াদিল্লি। অভিযোগের মধ্যে যদি ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং বর্ণবিদ্বেষের বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তা হলে তা আরও বৃহত্তর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
**আমেরিকায় হিন্দুবিদ্বেষের অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ**
আমেরিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের একটি বড় অংশ বসবাস করেন। শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, ব্যবসা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন শহরে হিন্দু মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠন গড়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও হিন্দু মন্দিরকে কেন্দ্র করে হিংসার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে এলে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিক্রিয়ায় হিন্দু-বিরোধী এবং বর্ণবিদ্বেষী মনোভাবের প্রসঙ্গ উঠে আসায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে আমেরিকার সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। এই ঘটনার প্রকৃতি, অভিযুক্তের উদ্দেশ্য এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই বিষয়টির মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে সংঘটিত অপরাধ শুধু আক্রান্ত সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তাকেই বিপন্ন করে না, সমাজে পারস্পরিক আস্থা এবং সম্প্রীতির উপরেও প্রভাব ফেলে। সেই কারণে ধর্মীয় উপাসনাস্থলগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্বেষমূলক অপরাধের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
**প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তার প্রশ্নে সতর্ক দিল্লি**
বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের নিরাপত্তা নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে ধর্মীয় উপাসনাস্থলকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য হামলার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসনের ভূমিকা এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর থাকে ভারতের।
অরোরার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে যে খবর সামনে এসেছে, তা তদন্তের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে গ্রেফতারির অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তদন্তকারীরা কী প্রমাণ পেয়েছেন এবং আদালতে সেই অভিযোগ কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়, তার উপরেই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা তথ্যের ভিত্তিতে এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। পাশাপাশি, কথিত ষড়যন্ত্রের হিন্দু-বিরোধী ও বর্ণবিদ্বেষী চরিত্রের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শিকাগো সংলগ্ন অরোরার হিন্দু মন্দিরে গণহত্যার কথিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ভারত-আমেরিকা দুই দেশের নজর কেড়েছে। ১৯ বছরের অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর তদন্ত কোন দিকে এগোয়, তার উপরেই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। একই সঙ্গে আমেরিকায় ধর্মীয় উপাসনাস্থলের নিরাপত্তা এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।