কলকাতার বুকে আরও একটি রাস্তার নাম পরিবর্তনের দাবি সামনে এল। এ বার বড়বাজারের ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দির সংলগ্ন একটি রাস্তার নাম বদলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই রাস্তার নাম ‘নবাব লেন’। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাস্তার নতুন নামকরণ করা হোক।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বড়বাজারের ওই এলাকায় একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন কার্তিক মহারাজ। সেই সময়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁর সঙ্গে দেখা করে ‘নবাব লেন’-এর নাম পরিবর্তনের দাবি জানান। এ বিষয়ে তাঁদের তরফে একটি লিখিত দাবিপত্রও কার্তিক মহারাজের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা মনে করেন, এলাকার চরিত্র এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে বর্তমান রাস্তার নামটি সেভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই নতুন করে নামকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বড়বাজারের ওই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জগন্নাথ মন্দির-সহ এলাকায় রয়েছে ২০টিরও বেশি মন্দির। সারা বছরই বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসবকে কেন্দ্র করে জমজমাট থাকে গোটা এলাকা। ফলে এলাকার এই বিশেষ পরিচয়কে সামনে রেখেই রাস্তার নামকরণ করা হোক, এমনটাই চাইছেন স্থানীয়দের একাংশ।
নাম পরিবর্তনের দাবির পিছনে স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও যুক্তি, রাস্তার নাম কোনও এলাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। তাই যে অঞ্চলে এতগুলি মন্দির এবং দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য রয়েছে, সেখানে সেই ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটবে এমন কোনও নাম রাখা যেতে পারে। যদিও ‘নবাব লেন’-এর পরিবর্তে ঠিক কী নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বা ভবিষ্যতে কোন নাম রাখা হতে পারে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিভিন্ন রাস্তা, এলাকার নাম পরিবর্তনের দাবিগুলি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। সেই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন কার্তিক মহারাজ। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর কাছেই সরাসরি এই দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবিপত্র গ্রহণ করে বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন কার্তিক মহারাজ।
এখন প্রশ্ন, স্থানীয়দের এই দাবি শেষ পর্যন্ত কতটা গুরুত্ব পায় এবং ‘নবাব লেন’-এর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে কী সিদ্ধান্ত হয়। নতুন নাম নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বড়বাজারের মতো ঐতিহাসিক এলাকার একটি রাস্তার নাম পরিবর্তনের দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয় স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।