১৭ দিনের অভিযান, আন্তঃরাজ্য অস্ত্র চক্রের ছক ভেস্তে দিল পশ্চিমবঙ্গের এসটিএফ! উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র, নগদ


১৭ দিনের টানা অভিযান, আন্তঃরাজ্য অস্ত্র চক্রের ছক ভেস্তে দিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ! বিহার-ঝাড়খণ্ডে হানা, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ

বড়সড় অস্ত্র পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করতে টানা ১৭ দিন ধরে অভিযান চালাল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করার পরই তদন্তে নেমে এই আন্তঃরাজ্য অস্ত্র চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। এরপর একের পর এক সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিহার ও ঝাড়খণ্ডে পৌঁছে যান এসটিএফের আধিকারিকেরা। সেখানে চক্রের মাথাদের গোপন আস্তানায় হানা দিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই অভিযানে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন এবং তাজা কার্তুজ। পাশাপাশি, নগদ টাকা উদ্ধারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকে মহম্মদ ফারহান ওরফে মুসান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তাঁর গতিবিধি এবং কার্যকলাপের উপর নজর রাখার পরই তাঁকে পাকড়াও করা হয়। গ্রেফতারির পর অভিযুক্তের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় দু’টি পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজিন এবং ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের পরই তদন্তকারীদের মনে সন্দেহ তৈরি হয়, এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র কাজ করছে কি না।

এরপরই তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে দেয় এসটিএফ। শুধু ধৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তদন্ত থামিয়ে রাখতে চাননি আধিকারিকেরা। কোথা থেকে ওই অস্ত্র আনা হয়েছিল, কারা সেগুলি সরবরাহ করত, কোন পথে অস্ত্র পাচার করা হত এবং এই বেআইনি কারবারের সঙ্গে আর কারা যুক্ত— সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। ধৃত যুবকের সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহকারী এবং পাচার চক্রের অন্য সদস্যদের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখাও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে ওঠে।

তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের দিকে নজর দেন এসটিএফের আধিকারিকেরা। গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর ওই দুই রাজ্যে অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, এই অস্ত্র চক্রের নেটওয়ার্ক শুধু পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ভিন্‌রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরেই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। একাধিক জায়গায় নজরদারি চালানোর পর শেষ পর্যন্ত চক্রের মাথাদের গোপন আস্তানায় পৌঁছে যান তদন্তকারীরা।

টানা ১৭ দিনের অভিযানেই মিলল সাফল্য। আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচার চক্রের মূল মাথাদের গ্রেফতার করার ফলে এই বেআইনি কারবারের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, কোথা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করা হত এবং কোথায় সেগুলি সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

অস্ত্র পাচার চক্রের বিরুদ্ধে এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার শুধু আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রেই নয়, অপরাধমূলক কার্যকলাপের আশঙ্কার দিক থেকেও উদ্বেগের বিষয়। কোথা থেকে অস্ত্র আসছে এবং কীভাবে তা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, সেই উৎস চিহ্নিত করা পুলিশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখন তদন্তকারীদের নজর ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস অনুসন্ধানের দিকে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্ত্র পাচারের রুট এবং চক্রের আর্থিক লেনদেন সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হতে পারে।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুর থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করার সূত্র ধরে শুরু হওয়া তদন্ত শেষ পর্যন্ত আন্তঃরাজ্য অস্ত্র চক্রের হদিস পেতে সাহায্য করেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফের টানা ১৭ দিনের অভিযানে চক্রের মাথাদের গ্রেফতারি তদন্তে নতুন দিশা খুলে দিল। তবে এই বেআইনি অস্ত্র কারবারের জাল কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তার উত্তর মিলবে পরবর্তী তদন্তেই।

Post a Comment

Previous Post Next Post